kolkata news
Highlights

  • ঝাঁ চকচকে ও সাজানো এই বিদ্যালয় কোনও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, এটা আর ৫ টা সাধারণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • সদিচ্ছা আর স্বচ্ছ মানসিকতা দিয়ে বিদ্যালয়কে কীভাবে সর্বাঙ্গীণ সুন্দর গড়ে তোলা যায় তার নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ ব্লকের পশ্চিম মহাদেবপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়
  • কী নেই এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, আধুনিক পানীয় জলের ফিল্টার, টিফিন পিরিয়ডে সুন্দর সাউন্ড সিস্টেমে গান ও ঘোষণা, সুন্দর ফুল ফল ভেষজ বাগান, দোলনা, চলাচলের ঢালাই রাস্তা, সুন্দর ডাইনিং ঘর, ইলেকট্রিক আলো ও ফ্যান


নিজস্ব প্রতিনিধি, উত্তর দিনাজপুর:
ঝাঁ চকচকে ও সাজানো এই বিদ্যালয় কোনও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, এটা আর ৫ টা সাধারণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। সদিচ্ছা আর স্বচ্ছ মানসিকতা দিয়ে বিদ্যালয়কে কীভাবে সর্বাঙ্গীণ সুন্দর গড়ে তোলা যায় তার নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়েছে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ ব্লকের পশ্চিম মহাদেবপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়। সরকারি অনুদানের সম্পূর্ণ ব্যবহার করে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিদ্যালয়কে শুধু সুন্দর করে সাজিয়ে তোলেননি, করে ফেলেছেন এক আধুনিক বিদ্যালয়। কী নেই এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, আধুনিক পানীয় জলের ফিল্টার, টিফিন পিরিয়ডে সুন্দর সাউন্ড সিস্টেমে গান ও ঘোষণা, সুন্দর ফুল ফল ভেষজ বাগান, দোলনা, চলাচলের ঢালাই রাস্তা, সুন্দর ডাইনিং ঘর, ইলেকট্রিক আলো ও ফ্যান। এমন ধরনের আরও অনেক কিছুর সঙ্গে আছে মনোরম পরিবেশ৷ আর এই সব কিছুই গড়ে তোলা হয়েছে আর ৫টা বিদ্যালয়ের মতো পাওয়া সরকারি অনুদান থেকেই।

এই স্কুলের এক শিক্ষক অলোক দত্ত জানিয়েছেন, তারা নিজেদের সম্মিলিত প্রয়াসকে কাজে লাগিয়ে স্কুলকে সুন্দর করার চেষ্টা করেন। যে যে কাজে পারদর্শী, সে সেই ভাবেই নিজের সদিচ্ছার প্রয়োগ করেন স্কুলের উন্নতির জন্য৷ অলোকবাবুর দাবি, এইভাবে সদিচ্ছা নিয়ে কাজ করলে সরকারি সব স্কুলগুলোই এভাবে সাজানো যেতে পারে। স্কুলের টিচার্চস কমন রুমে আছে ‘আমাদের দোকান’ লেখা এক আলমারি। পাইকারি বাজার থেকে খাতা, পেন্সিল, রাবার, পেন এই জাতীয় পড়ুয়াদের ব্যবহারের জিনিষ কিনে এনে সাজানো আছে, আছে স্টক ও সেল রেজিস্ট্রার, যা মেইনটেইন করে স্কুলের পড়ুয়ারাই। স্কুলের পড়ুয়ারা শিক্ষালাভে তাদের প্রয়োজনীয় স্টেশনারি এখান থেকেই কেনে। প্রথমত তারা পাইকারি দরে নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিস পাচ্ছে, দ্বিতীয়ত তারা শিখছে যোগ-বিয়োগ, শিখছে নিজস্ব ব্যবসা পরিচালনা করা।

স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা কৃষ্ণা তালুকদার দাস জানালেন, স্কুলে সকলে একসঙ্গে মিলে কাজ করা হয়। স্কুলকে সর্বাঙ্গীণ সুন্দর করতে দরকার সদিচ্ছা ও স্বচ্ছ মানসিকতার। যা স্কুলের সব শিক্ষক-শিক্ষিকার মধ্যেই আছে। পাশাপাশি আক্ষেপের সঙ্গে কৃষ্ণাদেবী জানিয়েছেন, তারা যে বাড়তি কাজগুলো বিদ্যালয়ে করে ফেলেছেন সেই কাজের সরকারি অনুদান তারা আর পান না। সেই অনুদান পেলে স্কুলকে আরও সুন্দর করতে পারবেন। সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। এই স্কুলে আসলে যে কেউ দেখতে পাবেন স্কুলের উন্নতি সাধনে স্কুলের শিক্ষকদের স্বচ্ছ মানসিকতা ও সদিচ্ছা স্কুলের সব জায়গায় পরতে পরতে দেখা যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here