মহানগর ওয়েবডেস্ক: লকডাউন জারি হওয়ার কয়েকদিন পরই দেখা গিয়েছিল বন্য জন্তুরা চলে আসছে শহরের মধ্যে। পরিচ্ছন্ন দূষণমুক্ত বাতাস দেড়শ–দু’শো কিলোমিটার দূরে থাকা হিমালয়ের বরফচূড়া দেখিয়ে দিচ্ছিল ভরা কংক্রিটের শহর থেকে। বাতাসে যে ভাসমান ক্ষতিকর ধূলিকণা লক্ষণীয় ভাবে কমেছে তারও তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল নিয়মিত।

অনেকেই ভেবেছিলেন এপ্রিল–মে মাসের আক্রমণাত্মক গরম থেকেও সম্ভবত এবার লকডাউনের দৌলতে কিছুটা রেহাই মিলবে। গত দু’দিন ধরে চলা গোটা উত্তর ভারত জুড়ে তাপপ্রবাহ প্রমাণ করে দিল, স্বস্তির আশা করা ভুল হয়েছিল। হিমাচল প্রদেশ মানেই ভরা গ্রীষ্ণেও পাতলা সোয়েটার, রাতে কম্বল। সিমলা তো সাহেবসুবোদের আমল থেকেই গ্রীষ্ণাবাস, গরম থেকে বাঁচার আশ্রয়। সেই সিমলার তাপমাত্রা এখন কলকাতার থেকে সামান্যই কম। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে হিমাচল প্রদেশের রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা মঙ্গলবার ছিল ২৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হিমাচলেরই আর এক জেলা উনার সদর শহরে তাপমাত্রা ছিল ৪৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সিমলা’র আবহাওয়া অফিসের ডিরেক্টর মনমোহন সিং জানিয়েছেন গোটা হিমাচল প্রদেশে এখন তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ৩–৪ ডিগ্রি বেশি।

দিল্লিতে বিগত ১০ বছরের মধ্যে উষ্ণতম দিন ছিল মঙ্গলবার। রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছে গিয়েছে ৪৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ২০১০ সালের ১৮ মে পারদ ছুঁয়েছিল ৪৭.৬ ডিগ্রি। গত সোমবারই আবাহাওয়া দফতর থেকে দিল্লি সহ, পঞ্জাব, হরিযানা, চণ্ডীগড়ে তাপ প্রবাহের ‘লাল’ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, উত্তর প্রদেশে জারি হয়েছিল ‘কমলা’ সতর্কতা।

বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পরপর দু’দিন তাপমাত্রার পারদ ৪৫ ডিগ্রি ছুঁলেই তাপপ্রবাহের ঘোষণা করা হয়। দিল্লির মত অপেক্ষাকৃত ছোট জায়গায় একদিনের জন্যও তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি হলে তাপপ্রবাহ চলছে বলা হয় বলে জানান আবহাওয়া দফতরের আঞ্চলিক অধিকর্তা কুলদীপ শ্রীবাস্তব। বৃহষ্পতিবারের পর থেকে এই অস্বাভাবিক উষ্ণতার হাত থেকে কিছুটা রেহাই মিলবে বলে জানান হয়েছে আবহাওয়া দফতর থেকে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here