ডেস্ক: বজ্র আঁটুনির মধ্যেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ উঠল উচ্চমাধ্যমিকের প্রথমদিনেই৷ মঙ্গলবার থেকে শুরু হল উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা৷ এদিন ছিল বিভিন্ন মাধ্যমের প্রথম ভাষার প্রথমপত্রের পরীক্ষা৷ বাংলা মাধ্যমে ছিল বাংলা পরীক্ষার প্রথম পর্ব৷ সেই প্রশ্নপত্রের MCQ-এর প্রায় সবকটি প্রশ্ন পরীক্ষা শুরুর পরেই বাইরে চলে আসে বলে অভিযোগ৷ হোয়াটস অ্যাপে এই প্রশ্ন বাইরে ছিড়িয়ে পড়ে৷ অথচ, পরীক্ষা কেন্দ্রের মধ্যে মোবাইল ফোন কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল৷ তা সত্ত্বেও কীভাবে মোবাইল ভিতরে গেল এবং প্রশ্নপত্র বাইরে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে৷

মালদা জেলাতেই সবেচেয়ে বেশি এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যাচ্ছে৷ বিষয়টি উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংদসদের গোচরে আনা হলে, সংসদ জানিয়েছে খতিয়ে দেখা হবে৷ সংসদ সভাপতি মহুয়া দাস প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি স্বীকার না করলেও, একেবারে উড়িয়ে দেননি৷ তিনি বলেন, ‘এটা বিরাট বড় একটা চক্রান্ত৷ কিছু স্বার্থান্বেষী মানুষের কাজ হতে পারে৷ আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখেছি৷ অভিযোগ প্রমাণ হলে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ যদি প্রশ্নপত্র সত্যিই ফাঁস হয়ে থাকে, তাহলে কোথা থেকে সেটা হল তা তদন্ত করে দেখতে হবে৷ তবে প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো জঘন্য ঘটনা কেউ ঘটিয়ে থাকলে রেয়াত করা হবে না৷ কুচক্রীদের অসৎ উদ্দেশ্য কোনওভাবেই সফল হবে না৷’

সম্প্রতি মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে৷ জলপাইগুড়ি জেলার ময়নাগুড়ির এক স্কুলে হরিদয়াল রায় নামক এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভয়ানক অভিযোগ উঠেছে৷ তিনি নাকি মেধা তালিকায় স্কুলের ছাত্রদের নিয়ে আসার জন্য পরীক্ষা শুরুর ৪০ মিনিট আগেই প্রশ্নপত্র ছাত্রদের কাছে উত্তর সহকারে দিয়ে দিতেন৷ যা নিয়ে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও রাজ্য শিক্ষা দফতর যৌথভাবে তদন্ত করে বিষয়টির সত্যতা যাচাইয়ের চেষ্টা করছে৷ পর্ষদ সূত্রে খবর, বড়সড় শাস্তির মুখে পড়তে পারেন ওই প্রধান শিক্ষক৷ ওই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে পরিদর্শকেরও৷ একে অপরের দিকে আঙুল তুলেছেন৷

কিন্তু এখান থেকেও শিক্ষা নেয়নি উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ৷ কড়া নজরদারি সত্ত্বেও কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে প্রশ্নপত্র বাইরে চলে এলো তার কোনও সদুত্তর এখনও মেলেনি৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here