মহানগর ওয়েবডেস্ক: করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও তাকে প্রতিহত করার জন্য লকডাউন ভারতীয় শিল্প ক্ষেত্রে এক দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত তৈরি করে দিল বলে মনে করা হচ্ছে। ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স (ফিকি) ও কনসালটেন্সি সংস্থা ধ্রুব অ্যাডভাইসার এর তরফে চালানো এক সমীক্ষায় প্রকাশ যে সরকার যদি শিল্পের পক্ষে যথেষ্ট অনুকূল ও সুবিধাজনক উদ্দীপক প্যাকেজ ঘোষণা না করে তাহলে আগামী দিনে শিল্প ক্ষেত্রে কর্মরত বহু কর্মী ছাঁটাই হতে চলেছে।

ফিকি’র তরফ থেকে জানানো হয়েছে, যে ৩৮০টি শিল্প সংস্থার ওপর সমীক্ষা চালানো হয়েছে তাদের মধ্যে অন্তত ২৮৫টি সংস্থা কর্মী ছাঁটাইয়ের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলছে বলে জানা গিয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মচ্যুতি আটকাতে সরকারের কাছে ৯ থেকে ১০ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ দাবি করা হয়েছে ফিকি’র পক্ষ থেকে। একমাত্র এ ভাবেই আবার অর্থনীতিকে তার পুরনো অবস্থায় ফিরিয়ে আনা যায় বলে মন্তব্য করা হয়েছে সমীক্ষা রিপোর্টে।
দেশের শিল্পের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখার জন্য কিছু শিল্প সংগঠন যেখানে ১৬ লক্ষ কোটি টাকার আর্থিক প্যাকেজ দাবি করেছে, নীতি আয়োগ–এর নিজস্ব বিশেষজ্ঞদের অভিমত আর্থিক প্যাকেজের পরিমাণ হওয়া উচিত মূল জিডিপি’র ৫ শতাংশ। টাকার হিসেবে যা ৯ লক্ষ ৫০ হাজার কোটি টাকা। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই খাতে কোনও আর্থিক প্যাকেজের কথা ঘোষণা করা হয়নি এবং কবে সে ঘোষণা হতে পারে তারও কোনও ইঙ্গিত দেওয়া হয়নি।

ফিকির সমীক্ষায় যে শিল্প সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে মতামত জানানো হয়েছে তাদের মধ্যে ৬৯ শতাংশের আশা সরকার কর ছাড় ও বিভিন্ন ইনসেন্টিভ সহ চাহিদা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। প্রকাশ্যে কোনও ঘোষণা সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত না করা হলেও সূত্রের খবর যথা সময়ে সঠিক আর্থিক প্যাকেজ ঘোষণা করার বিষয়টি সরকার ইতিমধ্যেই চিন্তা ভাবনা করেছে।

অতিমারী ও লকডাউনের ফলে অর্থনীতির ওপর প্রবল চাপ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডার (আইএমএফ)–এর পূর্বাভাস ভারতের আর্থিক বৃদ্ধি ২০২০ সালে ১.৯ শতাংশে দাঁড়াবে। বাজারে টাকার জোগান যথাযথ রাখতে ও ব্যাঙ্ক ঋণের পরিমাণ বাড়াতে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ইতিমধ্যেই কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সমীক্ষা অনুসারে ৭০ শতাংশ শিল্প সংস্থার আশঙ্কা বর্তমান আর্থিক বর্ষে চাহিদা হ্রাস ও অর্থের জোগানে টান পড়বে। শিল্প সংস্থাগুলির অভিমত, এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে গেলে সরকারকে রফতানি ইনসেনটিভ, বকেয়া অর্থ প্রদান, বাড়তি কর ফেরত, সহজ শর্তে ব্যাঙ্ক ঋণ দেওয়ার মতো পদক্ষেপ এই মুহূর্তে গ্রহণ করতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here