ম্যাচ হেরে তুমুল সমর্থক বিক্ষোভ ইস্টবেঙ্গলে, লিগ শীর্ষে পিয়ারলেস

0
332

ইস্টবেঙ্গল-০, পিয়ারলেস-১ (ক্রোমা)

সায়ন মজুমদার: ময়দানে ছোট দলের কাছে বড় দল হারলে সব কোচদেরই সমর্থকদের বিক্ষোভের সামনে পড়তে হয়েছে। তবু আলেহান্দ্রো ইস্টবেঙ্গলের দায়িত্ব নেওয়ার পর খেলার ফল যাই হোক না কেন, সমর্থকরা সব মুখ বুজে মেনে নিয়েছেন। কিন্তু গুরত্বপূর্ণ পর্যায়ে পিয়ারলেসের কাছে জঘন্য ফুটবল খেলে হারের পর সমস্ত ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়। সমর্থকদের রোষ থেকে বিপক্ষ ফুটবলার, রেফারি থেকে আলেহান্দ্রো, কেউ বাদ গেলেন না। আর ম্যাচ হেরে লিগ জয়ের ক্ষেত্রে অন্যদলগুলিকে সুবিধা করে দিল ইস্টবেঙ্গল।

গত ম্যাচের দল থেকে এদিন সাতটি পরিবর্তন করেছিলেন আলেহান্দ্রো। দলে এসেছিলেন কমলপ্রীত, কাশিম, মার্কোস, রোনাল্ডো, অভিষেক, মেহতাব ও ব্রেন্ডন। এদিনও ইস্টবেঙ্গলের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা কোলাডোকে বেঞ্চে রেখেছিলেন লাল হলুদ কোচ। কিন্তু তাতে হল বিপদ। প্রথমার্ধে তো সেভাবে খেলতেই পারল না দল, উল্টে দ্বিতীয়ার্ধে কোলাডোকে যখন নামালেন ইস্টবেঙ্গল কোচ, তখন তিনি আর কিছু করতে পারেননি। ফলে যা হওয়ার তাই হল। দলের জঘন্য ফুটবল দেখে তুমুল সমর্থক বিক্ষোভ। গত এক বছরে যা হয়নি, সেই আলেহান্দ্রো মেনন্দেজকে নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিলেন দর্শকদের একাংশ। গ্যালারি থেকে কোচ বদলের আওয়াজও উঠল। মাঠে পড়ল ইট, বোতল। পুলিশ পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে গেলে সমর্থকদের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বেঁধে যায়, আহত হন এক পুলিশ ও বেশ কিছু সমর্থক। ইস্টবেঙ্গলের পতাকা ছিঁড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে।

এদিন প্রথম থেকেই বল তুলে খেলতে শুরু করে ইস্টবেঙ্গল। কাদা মাঠে এটাই সাধারণ নীতি। কিন্তু এই নীতিতে খেলে আগের ম্যাচে সফলতা পেলেও এদিন পিয়ারলেসের বিরুদ্ধে তা কাজে এল না। বরং শুরু থেকে চাপ বাড়াতে থাকে পিয়ারলেস। সেই চাপের ফলে প্রচুর মিস পাস করল লাল হলুদ। ফলে ধৈর্য হারালেন সমর্থকেরা। আর তারফলে রেফারির একটি সিদ্ধান্তের সঙ্গে সহমত না হওয়ায় মাঠে কয়েকটা বোতলও পড়ল। মাঝে ক্রোমা একবার বল নিয়ে ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্সে ঢুকে যান, যদিও সেই যাত্রায় কোনও রকমে পরিস্থিতি সামাল দেয় লাল হলুদ রক্ষণ। এরপর হঠাৎ করেই বৃষ্টি নামে, আর সেই সঙ্গে বদলে যায় ইস্টবেঙ্গলের খেলাও। লং বল থিয়োরিতে কাজ না হওয়ায় পাসিং ফুটবলে জোর দিতেই ম্যাচে ফেরে শতাব্দী প্রাচীন ক্লাব। ৩৬ মিনিটে ডিডিকার কর্নার থেকে কাঙ্খিত গোলটি করেই ফেলছিলেন মার্কোস। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় তার হেড সাইড বারে লেগে ফিরে আসে।

দ্বিতীয়ার্ধে আশা করা হয়েছিল পাসিং ফুটবল খেলে তিন পয়েন্টের জন্য ঝাঁপাবে লাল হলুদ। কিন্তু হলো ঠিক উল্টো। সেই প্রথমার্ধের শুরুর মতো বল তুলে খেলল লাল হলুদ। আর তাতে অনেকটাই কাজ সহজ হয়ে গেল পিয়ারলেসের জন্য। যে পাসিং ফুটবলটা ইস্টবেঙ্গলের তরফ থেকে আশা করা হয়েছিল, সেটা খেলল পিয়ারলেস। ম্যাচে ফেরার জন্য বিদ্যাসাগর, কোলাডো ও সামাদকে নামান আলেহান্দ্রো। তাতে লাভের লাভ তো হলই না, উল্টে ৬৫ মিনিটে নিজেদের বক্সে ক্রোমাকে ফেলে দেন কমলপ্রীত। গোল করতে ভুল করেননি ইস্টবেঙ্গলেরই এই প্রাক্তনী। গোল খাওয়ার পরে আরও উত্তেজিত হয়ে পড়ে জনতা। রাগ গিয়ে পড়ে সেই ক্রোমার উপর। এমনকি মাঠের ধারে সুশ্রুতা নেওয়ার সময়ও তাকে লক্ষ্য করে বোতল ছোড়া হয়। এরপর আরও দুবার গোলের কাছে পৌঁছে গিয়েছিলেন জিতেন মুর্মু। কিন্তু দুবার তার শট বারে লেগে ফিরে আসে। শেষদিকে ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণের ঝাঁজ ও উত্তেজনা দুই বারে। ব্রেন্ডন বার দুয়েক গোলের সুযোগ মিস করেন। কিন্তু তাতে লাভের লাভ কিছু হয়নি।

ইস্টবেঙ্গলের প্রথম একাদশ: লালথামুইয়া, বোরহা, কমলপ্রীত, পিন্টু, কাশিম, মার্কোস, রোনাল্ডো, ডিডিকা, অভিষেক, মেহতাব ও ব্রেন্ডন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here