kolkata news
Highlights

  • সরকার নির্ধারিত বেতন, সব ঠিকা শ্রমিকদের ইএসআই, প্রভিডেন্ট ফান্ড মিলছে না
  • একাধিক দাবিতে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন চেঙ্গাইলের প্রেমচাঁদ চটকলের তাঁতঘর বিভাগ কয়েকশো শ্রমিক
  • মঙ্গলবার দুপুর থেকে তারা এই অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেছেন


নিজস্ব প্রতিনিধি, উলুবেড়িয়া:
সরকার নির্ধারিত বেতন, সব ঠিকা শ্রমিকদের ইএসআই, প্রভিডেন্ট ফান্ড দেওয়া-সহ একাধিক দাবিতে অবস্থান বিক্ষোভ করছেন চেঙ্গাইলের প্রেমচাঁদ চটকলের তাঁতঘর বিভাগ কয়েকশো শ্রমিক। মঙ্গলবার দুপুর থেকে তারা এই অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেছেন। বুধবারও তারা কর্মসূচি চালু রাখেন। এর জেরে ব্যাহত হয় চটকলের উৎপাদন। প্রেমচাঁদ জুটমিল ঠিকা শ্রমিক ইউনিয়ন নামে এক সংগঠনের সদস্যরা এই আন্দোলন করছেন। এব্যাপারে কারখানা কর্তৃপক্ষ কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। শ্রমিক সংগঠনগুলো মধ্যে তৃণমূল, কংগ্রেস ও ফরওয়ার্ড ব্লকের সমর্থিত সংগঠন শ্রমিকদের দাবির সঙ্গে সহমত হলেও কৌশলগত প্রেক্ষিতে এই আন্দোলনকে সমর্থন করছে না বলে নেতৃত্বদের বক্তব্য। তবে সিটুর বক্তব্য, তারা এই আন্দোলন সম্পর্কে বিশেষ কিছু জানে না। তাই তারা এই আন্দোলনকে সমর্থন করছে না বলে সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে।

বিভিন্ন সংগঠন ও শ্রমিকদের সূত্রে জানা গিয়েছে, এই কারখানায় প্রায় পাঁচ হাজার শ্রমিক কাজ করেন। এর মধ্যে প্রায় দেড় হাজার ঠিকা শ্রমিক। ঠিকা শ্রমিকদের বক্তব্য, তারা সরকার নির্ধারিত বেতন পাননি। এছাড়া ইএসআই, প্রভিডেন্ট ফান্ড-সহ বহু ভাতা রয়েছে, সেগুলোও তারা পাননি। তারা জানিয়েছেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দৈনিক তাদের কমপক্ষে ৩০০ টাকা পাওয়ার কথা। কিন্তু তারা কেউ পান না। এছাড়া তারা পাচ্ছেন না নাইট অ্যালাউন্স, ঘরভাড়া, লাইন ছুটি না। কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে দরবার করেও কোনও সুরাহা হয়নি। এমনকী, অন্য শ্রমিক সংগঠনগুলোও সেভাবে সচেষ্ট নয় শ্রমিকদের পাশে থাকার ক্ষেত্রে। একাধিক শ্রমিক জানিয়েছেন, তারা কেউ ২ বছর কেউ ৫ বছর কাজ করলেও বিশেষ কোনও সুবিধা পাচ্ছেন না। এ ব্যাপারে হাওড়ার শ্রম দফতরের কর্তা রজত কুমার পাল বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ন্যূনতম মজুরি ৩০০-র বেশি টাকা দিতে হয়। যদি শ্রমিকদের তা না দেওয়া হয়, সেটা বেনিয়ম। শ্রমিকরা তিনশো টাকার কম মজুরি পান এমন অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে। মিলের তরফে কেউ মুখ খুলতে চাননি।

মিলের আইএনটিটিইউসি তরফে বলা হয়েছে, আমরা সবসময়ই শ্রমিকদের পাশে রয়েছি। ওদের দাবি সমর্থন করি। তবে আগামী মাস খানেকের মধ্যেই আবার শ্রমিকদের দাবিদাওয়া নিয়ে মালিকের সঙ্গে বসার কথা। তাই আর কয়েক দিন অপেক্ষা করা ওদের উচিত ছিল। তার আগে অপেক্ষা না করে কাজ ব্যহত করে কোনও আন্দোলন আমরা সমর্থন করছি না। একই বক্তব্য জানিয়েছেন আইএনটিইউসি নবকুমার প্রামাণিক ও টিইউসিসি’র হাবিবুর রহমান। সিটুর তরফে নারায়ণ শ্যামল বলেন, আমরা ওদের দাবির বিষয়ে কিছু জানি না। আমাদের সঙ্গে ওরা আলোচনা ও করেনি। ফলে ওদের আন্দোলন সমর্থন করছি না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here