নিজস্ব প্রতিবেদক শিলিগুড়ি: অনান্য দিনের মতই বিয়ে বাড়ির কাজ সেরে সকলেই এসেছিলেন মালিকের বাড়িতে ক্যাটারিংয়ের জিনিসপত্র রাখতে। কিন্তু মাঝ রাতেও বাড়ির সদর দরজা হাট করে খোলা দেখে তাদের খটকা লাগে আর ভেতরে ঢুকে তো রীতিমত পিলে চমকে ওঠে তাদের। বাইরের ঘরের বিছানায় রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পড়ে রয়েছে মালিকের দেহ। পাশেই একই অবস্থায় পড়ে তার স্ত্রীর দেহ। ভয়ে তারাই ডেকে তোলেন পাড়া প্রতিবেশিদের, আসে পুলিশও। কিন্তু শনিবার রাতের সেই হত্যাকান্ডের ঘটনায় রবিবার দিনভর তদন্ত করেও কোন সুরাহা খুঁজে পেলেন না শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটের আধিকারিকেরা। কিন্তু বাগডোগরা এলাকার এই খুনের ঘটনায় দিনভর জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়ে থাকল শিলিগুড়ি শহরে।

শনিবার রাতে দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি মহকুমার বাগডোগরা থানা এলাকায় নিজের বাড়িতেই খুন হন ক্যাটারিং ব্যবসায়ী অজয় কুশয়াহা(৩৫) ও তার স্ত্রী মীনা কুশয়াহা(৩২)। অজয়ের ক্যাটারিং সংস্থার কর্মীরা একটি বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠান সেরে মাঝরাতে তার বাড়িতে এসেছিল তাদের সঙ্গে থাকা ক্যাটারিং সামগ্রী রাখতে। প্রতিবার তারা এই রকমই করে। ওই কর্মীরা কাজ শেষে বাড়ি ফেরার আগে অজয়ের বাড়িতে এসে সব কিছু রেখে তারপর যে যার বাড়িতে যেতেন। কর্মীরা বাড়িতে এসে ডাকাডাকি করলে বাড়ির দরজা খুলতেন অজয়। অথচ শনিবার সেই বাড়ির দরজাই হুট করে খোলা ছিল। কর্মীরা বাইরে থেকে তা দেখে ডাকাডাকি করলেও কেউ বেড়িয়ে না আসায় তার ভিতরে ঢুকে যান আর তারপরেই তাদের চোখে পড়ে ওই দম্পতির খুন হয়ে যাওয়ার বিষয়টি। তবে মজার কথা পাশের ঘরে থাকা অজয়ের চার বছরের ছেলে ও তিন মাসের মেয়ে সম্পূর্ন অক্ষতই ছিল। তারা দুজনেই তখন ঘুমিয়েছিল।

পুলিশ ইতিমধ্যেই দুইজনের দেহ উদ্ধার করে তা উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় ময়না তদন্তের জন্য। প্রাথমিক ভাবে তাদের অনুমান ঘাতক একাধিক জন এবং তারা ওই দম্পতির পরিচিত কেউ। কারণ বাড়ির বাইরের দরজা ভাঙা যেমন হয়নি তেমনি পাড়াপ্রতিবেশীদের কেউ কিছু জানতেও পারেনি। এমনকি ঘরের ভিতর ধ্বস্তাধস্তির কোন চিহ্নও পাওয়া যায়নি। লুঠ হয়নি বাড়ির কোন সামগ্রীও। পুলিশের ধারনা ভারী ও ধারালো কোন অস্ত্র দিয়েই ওই দম্পতিকে খুন করা হয়েছে। তবে অজয়ের মায়ের ধারনা ব্যবসায়িক শত্রুতার জন্যই হয়ত খুন করা হয়েছে অজয়কে। কারন ক্যাটারিং ব্যবসায় অজয় দ্রুত আর্থিক উন্নতির মুখ দেখছিলেন যা ওই এলাকার অনান্য ক্যাটারিং ব্যবসায়ীদের কাছে ঈর্ষার কারণ হয়ে উঠেছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here