ডেস্ক: অবশেষে কাটল রহস্যের জট৷ কৈখালিতে সিভিক ভলেন্টিয়ার শম্পা দাস খুনে গ্রেফতার হল তাঁর স্বামী সুপ্রতিম দাস। পুলিশ সূত্রে খবর, শম্পাদেবীর স্বামী জেরায় পেশাদার খুনি দিয়ে হত্যার ঘটনা স্বীকার করে নিয়েছে। সুপ্রতীম দাসকে গ্রেফতার করেই পুলিশ ক্ষান্ত হয়নি, শম্পা দাসের শাশুড়ির উপর কড়া নজর রাখা হয়েছে। যে কোনও মুহূর্তে গ্রেফতার হতে পারে সুপ্রতীম দাসের মা। পুলিশের ধারণ, ছেলের বউকে খুনের সময় সুপ্রতীম দাসের মা বাড়িতে না থাকলেও, তিনি সব জানতেন৷ এবং জানতন বলেই খুনের সময়ে তরমুজ কেনার নাম করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান।

পুলিশি জেরায় সুপ্রতীম দাবি করেছেস, শম্পাদেবী নিজের নামে সম্পত্তি লিখে দিতে সুপ্রতীমের উপর প্রতিদিন চাপ সৃষ্টি করত এবং নানা ভাবে অত্যাচার চালাতো৷ স্ত্রী’র অত্যাচার হাত থেকে মুক্তি পেতেই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সুপ্রতীম। তবে বোনের হত্যাকারীরর এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন শম্পা দাসের দাদা মিলন বিশ্বাস৷ শম্পার পরিবারের অভিযোগ, স্বামী ও শাশুড়ি মিলে রোজ অত্যাচার করত শম্পাকে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তেও সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘ চানাপোড়েনের বিষয়টি উঠে এসেছে৷ স্বামী এবং শাশুড়ির সঙ্গে প্রায়ই ঝামেলা লেগে থাকত শম্পার। শম্পার খুন হওয়ার দিন মাংস রান্না করার জন্য স্ত্রীকে ফোন করে তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে আসতে বলে সুপ্রতীম। স্বামীর ডাকে সাড়া দিয়ে ইকো পার্কের ডিউটি থেকে দ্রুত বাড়ি ফেরেন শম্পা। আগে থেকেই ভাড়াটে খুনিরা পরিকল্পনামাফিক হাজির ছিল শম্পাদেবীর বাড়িতে৷ পুলিশ তদন্তে নেমে সুপ্রতীম এবং তাদের বাড়ির পরিচারিকাকে দফায় দফায় জেরার করে মূল সূত্রে পৌঁছায়৷ সমস্ত তথ্য প্রমাণ হাতে নিয়েই অবশেষে সোমবার শম্পা দাস খুনে জড়িত তাঁর স্বামী সুপ্রতীম দাসকে গ্রেফতার করে৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here