নিজস্ব প্রতিবেদক, কাটোয়া: বৃহস্পতিবার সকালে ঘরের দরজা ভেঙে উদ্ধার করা হল এক দম্পতির দেহ। মৃত দম্পতির নাম সন্তোষ পান(৩০) এবং টুসু পান (২৭)। ঘটনাস্থল পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমার অন্তর্গত কেতুগ্রামের নবগ্রাম এলাকা। ঘটনায় দেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ।

জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে ঘরের দরজা বন্ধ করে ঘুমোতে গিয়েছিলেন সন্তোষ পান এবং তার স্ত্রী। কিন্তু বৃহস্পতিবার বেলা হয়ে গেলেও দরজা না খুললে দরজা ভেঙে দেখা যায় রক্তাক্ত গলাকাটা অবস্থায় বিছানায় পড়ে রয়েছে টুসুর দেহ। পাশেই সিলিং ফ্যনের সঙ্গে ঝুলছে সন্তোষ। এরপরই কেতুগ্রাম থানায় খবর দেওয়া হয়। ঘটনায় পুলিশ এসে তদন্ত শুরু করলে রক্তাক্ত টুসুর দেহের পাশ থেকে একটি ছুড়ি উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, স্ত্রীকে খুন করে আত্মঘাতী হয়েছেন সন্তোষ। অন্যদিকে সন্তোষের পরিবারে অভিযোগ টুসু পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল তার জেরেই এই বিপত্তি।

সুত্রের খবর, সন্তোষের পরিবারে তার স্ত্রী টুসু পান ছাড়াও বয়স্ক বাবা সনাতন পান, মা সনকা পান, দাদা কার্তিক পান এবং তার পরিবার সকলেই নবগ্রামের বাড়িতে থাকতেন। সন্তোষ পেশায় স্বর্ণকার তাই কাজের জন্য তিনি থাকতেন অন্য রাজ্যে। পাশাপাশি সন্তোষের দাদাও কাজ করেন কলকাতায়। এক কথায় বৃদ্ধ বাবা ছাড়া বাড়িতে ছেলে বলতে কেউ থাকতেন না। কিন্তু কয়েকমাস আগে সন্তোষ চলে আসেন বাড়িতে। এরপর বৃহস্পতিবার সন্তোষ এবং তার স্ত্রীর দেহ উদ্ধারের পর পরিবার সুত্রে জানা গিয়েছে, বীরভূমের রুইপুর গ্রামের বাসিন্দা টুসুর সঙ্গে সম্বন্ধ করে বিয়ে হয়েছিল সন্তোষের। অবশ্য বিয়ের পর থেকে স্বাভাবিক ছিল না টুসু এবং সন্তোষের সম্পর্ক। এই বিষয় সন্তোষের মা সনকাদেবী বলেন, ‘ বিয়ের পর থেকে ছেলের সঙ্গে বৌমার সম্পর্ক ভালো ছিল না। দুজনেই দুজনের সঙ্গে কম কথা বলত। ভেবেছিলাম হয়তো পরে সম্পর্ক ঠিক হয়ে যাবে । কিন্তু তাই বলে এমন সর্বনাশ হবে তা স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here