মহানগর ওয়েবডেস্ক: বিক্ষোভে উত্তাল নিউ ইয়র্ক। মিনিয়াপোলিসের জর্জ ফ্লয়েডের হত্যাকাণ্ডের পর প্রতিবাদের ঢেউয়ে তছনছ হতে শুরু করেছে ইতিমধ্যেই কোভিড–১৯ অতিমারীতে বিধ্বস্ত আমেরিকার ঘনবসতিপূর্ণ শহর। কয়েক হাজার মানুষ বার্কলে সেন্টারের নিরাপত্তা পরিসীমার মধ্যে প্রবেশ করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। ব্রুকলিনে বহু প্রতিবাদীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। আটলান্টিক অ্যাভেনিউতে সার বেঁধে বাস দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে প্রতিবাদীদের গ্রেফতার করে চালান করার জন্য। বহু রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশাল সংখ্যক মানুষ দলবদ্ধ হয়ে এগনোর চেষ্টা করছে, কেউ গান গাইছে, কেউ পুলিশি অত্যাচার নিয়ে পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পড়ছে। এরই মধ্যে কখনও পুলিশের দিকে উড়ে আসছে জলের বোতল। নিক্ষেপকারীদের গ্রেফতার করছে পুলিশ।

পুলিশের হাঁটু দিয়ে মাটিতে মুখ চেপে থাকা জর্জ ফ্লয়েডের শেষ কথা ছিল ”আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।” বিক্ষোভকারীরা এই বাক্যটিকেই প্রতিবাদ আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করছেন। পুলিশের এই ”চেকহোল্ড” পদ্ধতিটিকে বেআইনি ঘোষণা করার জন্য ম্যানহাটনে দাবি উঠছে। ২০১৪ সালে এই একই পদ্ধতিতে এরিক গার্নার নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল পুলিশের হাতে। তিনিও ছিলেন জর্জ ফ্লয়েডের মতোই কৃষ্ণাঙ্গ।

নাগরিক অধিকার রক্ষার প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব মার্টিন লুথার কিং–এর ছোট মেয়ে বার্নি কিং আবেঘহীণ ভাষণে বলেন, ”আমরা যা চাই, তা একমাত্র আমরা পেতে পারি অহিংস পদ্ধতিতে। আসুন আমরা আমাদের সময়ের খারাপগুলোকে অহিংসার পথে প্রতিহত করি।” তিনি জড়ো হওয়া এক হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে বাড়ি ফিরে যেতে বলেন। ১৯৬৮ সালের জাতি দাঙ্গার এক বছরের মধ্যে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়ার আততায়ীর হাতে খুন হয়েছিলেন।

যদিও আটলান্টা’র প্রতিবাদ বিশৃঙ্খল কোনও কোনও সময় হিংসাত্মক হয়ে উঠেছিল। সিএনএন সেন্টারের কাছে একটি পুলিশের গাড়ি সহ বহু গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। সিএনএন–এর দফতরের জানলার কাচ ও সামনের দোকানপাট ভাঙচুর চালায় বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিলে তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ছুড়তে থাকে। কয়েকশো বিক্ষোভকারী রাত আটটার পর জারি হওয়া কারফিউ ভেঙে জড়ো হয়ে যায় গতকাল জ্বালিয়ে দেওয়া থানার সামনে।

প্রতিবাদে পথে নেমে আসা বহু মানুষের হাতে দেখা যাচ্ছে প্ল্যাকার্ড, পোস্টার। তার কোনওটায় লেখা রয়েছে ”পুলিশি অত্যাচার বন্ধ হোক”, অথবা কোনটায় লেখা রয়েছে আমি ততক্ষণ চিংকার করে যাব যতক্ষণ প্রত্যেকে নিঃশ্বাস না নিতে পারবে”। মিনোসটা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের স্নাতক এক তরুণ বিক্ষোভকারী ছোট্ট সংলাপে প্রতিবাদের মূল সুরটি জানিয়ে দেন। ”আমরা আজ এখানে এসেছি কারণ এই প্রজন্মের মানুষ হিসেবে আমরা বুঝতে পেরেছি এই পরিস্থিতির বদল দরকার।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here