মহানগর ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র চুলের মুঠি ধরে মারছে ছেলে। বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর শুক্রবার এমনই বড় বড় ছবি ছেয়ে গিয়েছে সংবাদপত্রের পাতায়। রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে হইচই। এই ছবি দেখার পর আতঙ্কে ঘুম ছুটেছে সংস্কৃত কলেজের ভাষা বিজ্ঞানের ছাত্র দেবাঞ্জন বল্লভের ক্যান্সার আক্রান্ত মা। সম্প্রতি বাবুল সুপ্রিয়র কাছে দেবাঞ্চনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার জন্য কাতর অনুরোধ জানিয়েছেন তার মা। এরপরই মানবিক হয়ে উঠলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। আতঙ্কিত মাকে স্বস্তি দিয়ে তিনি জানিয়ে দিলেন, তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেবেন না তিনি।

বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপির এক অনুষ্ঠানে গিয়ে তুমুল ছাত্র বিক্ষোভের মুখে পড়েন বাবুল সুপ্রিয়। রীতিমতো হেনস্থা করা হয় তাঁকে। ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়ার পাশাপাশি, চুল ধরে টানা হয় তাঁর। সেই ছবি ভাইরাল হয়ে উঠতেই দেখা যায় দেবাঞ্জন বল্লভ নামে সংস্কৃত কলেজের এক ছাত্র চুল টেনেছে বাবুলের। আশঙ্কা করা হচ্ছিল এবার হয়ত বিপদ ঘনিয়ে আসছে ওই ছাত্রের জীবনে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনওরূপ ব্যবস্থা না নেওয়ার জন্য কাতর আবেদন জানান ওই ছাত্রের ক্যান্সার আক্রান্ত মা। এরপরই আতঙ্কিত ওই মাকে আশ্বস্ত করে সোশ্যাল মিডিয়ায় বাবুল লেখেন, ‘চিন্তা করবেন না মাসিমা। আমি কোনো ক্ষতি করব না আপনার ছেলের!! ওর ভুল থেকে ও শিক্ষা নিক। এটাই চাই। আমি নিজে কারও বিরুদ্ধে কোনও FIR তো করিইনি – কারোকে করতেও দিইনি – আপনি দুশ্চিন্তা করবেন না – তাড়াতাড়ি সেরে উঠুন মাসিমা! আমার প্রণাম নেবেন।’ বাবুলের এই মানবিক পোস্টে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখছেন ক্যান্সার আক্রান্ত মা রূপালি বল্লভ। সোশ্যাল মিডিয়ায় বাবুলের উদ্দেশ্যে এসেছে একের পর এক প্রশংসা বার্তা।

উল্লেখ্য, বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান দেবাঞ্জন বল্লভের বাড়ি বর্ধমানে। তাঁর বাবার নাম চন্দন বল্লভ। দীর্ঘদিন ধরে বর্ধমান টাউন স্কুলের শিক্ষকতা করছেন তিনি। মা বিগত কয়েক বছর ধরে ক্যানসারে আক্রান্ত। চলছে চিকিৎসা। সংস্কৃত কলেজের ভাষা বিজ্ঞানের ছাত্র। সব কিছুকে সঙ্গে করেই জীবন চলছিল চন্দন বাবুর। কিন্তু তাল কাটে বৃহস্পতিবারের পর। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে মারছে ছেলে এই ছবি গোটা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ার পর রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে ওঠে ওই পরিবার। যদিও মার খেয়ে আরও মানবিক হয়ে ওই পরিবারের পাশেই দাঁড়িয়েছে বাবুল। তাঁর এহেন পদক্ষেপকে দলমত নির্বিশেষে স্যালুট জানিয়েছে সবপক্ষই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here