ডেস্ক: পাক অধিকৃত কাশ্মীরের বালাকোটে বায়ুসেনার এয়ার স্ট্রাইকের পর থেকে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। জইশ-ই-মহম্মদের প্রশিক্ষণ শিবির কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা কত জন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে এই নিয়ে চলছে তরজা। ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় হামলার প্রমাণ দেখতে চাইছেন বিরোধীরা। পুলওয়ামা হামলায় শহীদ হওয়া সেনা পরিবারদের একাংশেরও দাবি, জঙ্গিদের মৃতদেহের প্রমাণ দেওয়া হোক। আর এই গোটা বিতর্কে ঘি ঢালার কাজ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম রয়টার্সের একটি স্যাটেলাইট ছবি। যেখানে উপর থেকে কোনও ক্ষতি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না জইশ ক্যাম্পে। অক্ষত রয়েছে মাদ্রাসাও। মোট কথা ২০১৮ এপ্রিল ও ২০১৯ -৪ মার্চের ছবি তুলনা করে দেখা যাচ্ছে বিশেষ পরিবর্তনই হয়নি। আর এখানেই কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে বিতর্ক।

গোটা বিষয়টি নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বুধবার ফের আসরে নামে বায়ুসেনা। বারংবার এয়ার স্ট্রাইকে ক্ষয়ক্ষতির সত্যতা নিয়ে সওয়াল তোলার জবাবে বায়ুসেনার তরফে বুধবার জানানো হয়, বালাকোট হানায় যথেষ্ট ক্ষতি হয়েছে এবং তা নির্দিষ্ট লক্ষ্যেই হানা দিয়েছে। সরকারি রেডার ও স্যাটেলাইটের ছবি ব্যবহার করে এই তত্ত্ব প্রমাণের চেষ্টা করে বায়ুসেনা। দাবি করা হয়, মিরাজ থেকে নিক্ষেপ হওয়া মিসাইল এস-২০০০ নির্দিষ্ট জায়গায় আঘাত হেনেছে। একই সঙ্গে জঙ্গি ঘাঁটিতে যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে তা স্যাটেলাইট ছবিতে ধরা পড়ছে না কারণ এই মিসাইল বোমা নির্দিষ্ট লক্ষ্যে গভীর দিয়ে ঢোকে এবং অভ্যন্তরে আঘাত করে। আর সেই আঘাতের যাবতীয় তথ্য বুধবার কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানায় বায়ুসেনা।

 

সূত্রের খবর, ভারতীয় বায়ুসেনা নিজেদের স্বাধীন সূত্র থেকে স্যাটেলাইটের ছবি নিয়ে সরকারকে জমা দিয়েছে জইশ ক্যাম্পে হানা দেওয়ার। যদিও রয়টার্স সূত্রে দাবি, বর্তমানে আগের অবস্থাতেই রয়েছে বালাকোটের জইশ-ই-মহম্মদের ঘাঁটি। অন্যদিকে এই হামলায় আদৌ কত জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটার নাম নিচ্ছে না। তবে ওয়াকিবহাল মহলের ধারনা, যতদিন পর্যন্ত সরকারের হাতে প্রমাণ সহ নির্দিষ্ট কোনও সংখ্যা আসছে, ততদিন এই নিয়ে নতুন করে আর কোনও মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকবেন সকলেই।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here