ফয়জলের পর এবার কান্নান, উপত্যকাবাসীর অধিকার নিয়ে সোচ্চার হয়ে চাকরি ছাড়লেন আইএএস

0

মহানগর ওয়েবডেস্ক: তিনি প্রতিবাদী মুখ৷ আগেও একাধিকবার সামাজিক নানা ইস্যু নিয়ে সরব হয়েছেন৷ আবারও হলেন৷ ছাড়লেন ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভের চাকরি৷ ইনি কেরলের কান্নান গোপিনাথন৷ চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়ার নেপথ্যের কারণ জম্মু কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়ার জেরে মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে উপত্যকাবাসীর৷ কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে ভূস্বর্গের মানুষের৷ দেশজুড়ে বেড়ে চলা অসহিষ্ণুতার প্রতিবাদে সোচ্চার হয়ে এর আগে আইএসএসের চাকরি ছেড়েছিলেন শাহ ফয়জল৷ বর্তমানে কাশ্মীরে গৃহবন্দি হয়ে রয়েছেন ফয়জল৷

বছর তেত্রিশের কান্নান গোপিনাথন চেয়েছিলেন অন্যদের নির্ভয়ে কথা বলতে সাহায্য করবেন৷ সেই আশা নিয়েই হয়েছিলেন আইএএস অফিসার৷ দাদার ও নগরহাভেলিতে বিদ্যুৎ এবং অপ্রচলিত শক্তির দফতরের সচিব ছিলেন তিনি৷ কিন্তু কান্নানের সে আশা পূরণ হয়নি৷ বরং কণ্ঠরোধ হয়েছিল তাঁর নিজেরই৷ রাগে ক্ষোভে আগেও চাকরি ছাড়তে চেয়েছিলেন৷ তবে সেসময় তাঁর ইস্তফা গৃহিত হয়নি৷ তবে উপত্যকা থেকে ৩৭০ ধারা তুলে নেওয়ার পর কাশ্মীরের যা পরিস্থিতি তা দেখে নিজেকে ঠিক থাকতে পারেননি তিনি৷ গর্জে উঠেছিলেন৷ অপমানে ছেড়ে দিলেন চাকরিও৷ এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে কান্নান জানান, ৩৭০ ধারা প্রত্যাহার করার বিষয়টি সমস্যার নয়৷ সমস্যা তখনই তৈরি হয়েছে যখন ২০ দিন ধরে প্রায় লক্ষ মানুষের অধিকার বিঘ্নিত হচ্ছে৷ আর তা সত্ত্বেও দেশবাসী এ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে না৷ এমনকি শাহ ফয়জলকে যখন গৃহবন্দি করা হল দেশের মানুষ তা নিয়েও কোনও প্রতিবাদ করেনি৷ যেন এই সবকিছুর সঙ্গেই মানিয়ে নিতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে দেশের মানুষ৷ এসব ঘটনা তাকে ব্যাথিত করছে৷

২১ অগাস্ট তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে চাকরি থেকে ইস্তফা দেন কান্নান গোপিনাথন৷ এবারের লোকসভা ভোটের পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পড়েছিল কান্নানের কাঁধে। তখন এক রাজনৈতিক কর্মীর সঙ্গে বিবাদে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। কান্নান তাঁর নামে নির্বাচন কমিশনকে অভিযোগও জানান। বলেন, ওই ব্যক্তি তাঁকে নির্দেশ দিয়ে অসত্ কাজ করাতে চেয়েছিল৷ সেইসময় কান্নান আক্ষেপ করেছিলেন, বাকস্বাধীনতা হরণ করা হচ্ছে তাঁর৷ তাই আর বেশিদিন এই চাকরি করতে চান না তিনি৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here