শ্যাম রাখি না কূল! দেবশ্রী ইস্যুতে দলের কথা মানতে গিয়ে সম্পর্কের দোলাচলে শোভন-বৈশাখী

0
4424

মহানগর ওয়েবডেস্ক: ঘটনাটা ১৪ আগস্টের। দীর্ঘ বছর ধরে নিজের সবটুকু দিয়ে যে দলটাকে ভালোবেসেছিলেন এক লহমায় সেই তৃণমূলে গুরুতর আঘাত হেনে বিজেপিতে যোগ দেন শোভন। সঙ্গে ছিলেন বান্ধবী বৈশাখী। এরই মাঝে ক্যামেরার এক ঝলকে দেখা যায় বিজেপি দফতরে উদ্বিগ্ন আর এক তৃণমূল বিধায়ক দেবশ্রী রায়ের মুখ। তিনিও যোগ দিতে চান বিজেপিতে। তবে সেই মুহূর্তে বিষয়টি সম্পূর্ণ না হলেও, দেবশ্রীকে দলে নিতে এই মুহূর্তে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বিজেপি। শোনা যাচ্ছে প্রক্রিয়া চলছে, শীঘ্রই বিজেপির সদস্য হচ্ছেন দেবশ্রী। আর এখানেই বড় বিপাকে পড়েছেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র তথা বিজেপি নেতা শোভন চট্টোপাধ্যায়। দড়ির একপ্রান্তে দল, তো অন্য প্রান্তে বান্ধবী বৈশাখী। আর মাঝে পড়ে একেবারে ঘেমে নেয়ে একসা অবস্থা একদা মমতার কানন।

১৪ আগস্টের পর থেকে দেবশ্রী সেই যে মোবাইল অফ করেছেন তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত তাঁকে ধরতে পারেননি কোনও সাংবাদিকই। দলও তাঁকে পাত্তা দিতে খুব একটা ইচ্ছুক নয়। এদিকে শোভন চাপ কাটিয়ে দেবশ্রীকে ছিপে তুলে সংখ্যা বাড়াতে উঠেপড়ে লেগেছে গেরুয়া শিবির। দলের তরফে শোভনকে স্পষ্ট বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে দেবশ্রীকে দলে নেওয়া নিয়ে তাঁর কোনও আপত্তি শোনা হবে না। আগামী মাসের শুরুর দিকে কলকাতার কোনও এক পাঁচতারা হোটেলে দল বদলের এই প্রক্রিয়াটি সেরে ফেলতে চায় বিজেপি। আর সেখানে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে শোভনকেও। আর এখানেই বাঁধছে সমস্যা। কারণ বিজেপিতে যোগ দিতে শোভনের মাধ্যম হয়ে উঠেছিলেন বান্ধবী বৈশাখী। তাঁর চেষ্টাতেই আজ বিজেপির ঘোর আলো করেছেন শোভন। এদিকে জানা যাচ্ছে দেবশ্রীর বিজেপি যোগে বৈশাখীরই ছিল মূল আপত্তি। না তে না মিলিয়ে তখনই বেঁকে বসেছিলেন শোভন। তবে দেবশ্রী কিন্তু এমনি যাননি বিজেপির সদর দফতরে। যাওয়ার আগে দিলীপ ঘোষকে ফোন করে তাঁর সঙ্গে কথাবার্তা বলে তবে তিনি উপস্থিত হন। এমনটাই জানা গিয়েছে বিজেপি সূত্রে।

এখন পরিস্থিতি যা তাতে পুরানো বান্ধবী যদি নতুন দলে নতুনভাবে শোভনের পাশাপাশি যোগ দেন তাতে বৈশাখীর সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে শোভন চট্টোপাধ্যায়ের। এমনিতেও কলকাতায় শোভন সংবর্ধনায় আমন্ত্রন নিয়ে কী পরিস্থিতি হয়েছিল তা দেখেছে গোটা রাজ্য। আর দেবশ্রী যদি যোগ দেন তবে মুখে না বললেও মনে মনে সেখানে প্রথম আপত্তিটা উঠবে বৈশাখীর থেকেই। আর সেই অনুষ্ঠানে যদি শোভন যান তবে পরিস্থিতি যে আরও খারাপ হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এদিকে আবার দলে পায়ের নিচের মাটি শক্ত করতে দলকে মান্যতা দেওয়ার একটা দায় রয়েছে প্রাক্তন মেয়রের। সব মিলিয়ে একদিকে দল ও অন্যদিকে বৈশাখী সব মিলিয়ে পরিস্থিতি বেশ গুরুতর শোভনের কাছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here