firhad hakim and kmc

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকতা: ভোট পিছিয়ে গেলে সাংবিধানিক সংকটের মুখে পড়তে চলেছে কলকাতা পুরসভা। মঙ্গলবার এমনটাই আশঙ্কা প্রকাশ করেন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তাই যত দ্রুত সম্ভব করানো যায় সে চেষ্টাই করা হবে বলে এদিন জানান তিনি। ৩০ মার্চ নির্বাচন কমিশনে রয়েছে রিভিউ মিটিং। এই মিটিংয়ে দ্রুত ভোট করানোর বিষয়টি উত্থাপন করা হবে বলে জানান মেয়র।

বর্তমানে কলকাতা পৌরসভার যে বোর্ড রয়েছে তার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৭ মে। নিয়ম অনুযায়ী যেদিন থেকে বোর্ড গঠন হয়, আর পাঁচ বছর পরে নির্দিষ্ট দিনে বোর্ড গঠন করতে হয়। শেষ বোর্ড গঠন হয়েছিল ২০১৫ সালের ৮ মে। তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত এই পুরবোর্ড গঠন হয়েছিল শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে। এই বোর্ডের সময়সীমা শেষ হচ্ছে চলতি বছরের ৭ মে। নিয়ম অনুযায়ী, আগের বোর্ডের সময়সীমা শেষ হওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই পুনরায় বোর্ড গঠন করতে হয়।

করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে সতর্কতা মূলক পদক্ষেপ হিসেবে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে পুরভোট। সেক্ষেত্রে জুন মাসের আগে পুরভোট হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই বলেই জানা গিয়েছে নির্বাচন কমিশন সূত্রে। এদিকে বোর্ডের মেয়াদ শেষ হলে বেঙ্গল মিউনিপ্যাল অ্যাক্ট অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পৌরসভায় বা পুরনিগমের দায়িত্ব চলে যায় প্রশাসকের হাতে। যদিও এই নিয়ম কার্যকর নয় কলকাতা পুরসভার ক্ষেত্রে। কলকাতা কর্পোরেশন অ্যাক্ট ১৯৮০’র আইনানুযায়ী, বোর্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সেখানে প্রশাসক বা বিশেষ আধিকারিক বসানো যাবে না। নিয়ম অনুযায়ী, ৭ মে’র আগে কলকাতা কর্পোরেশনের পুরভোট না হলে তালা ঝোলাতে হবে কলকাতা কর্পোরেশনে। এর ফলে কলকাতা কর্পোরেশনের তরফ থেকে বন্ধ হয়ে যাবে সমস্ত পরিষেবা। সাংবিধানিক সংকটে পড়বে কলকাতা পুরসভা।

এই অবস্থায় যদি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পুরভোট না হয় তবে পুরসভা কে চালাবে সেই নিয়ে ইতিমধ্যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এই প্রসঙ্গে মেয়র জানান, প্রয়োজন হলে সে ক্ষেত্রে অর্ডিন্যান্স এনে নতুন আইন করতে হবে। এবং সেই আইনকে ছয় মাসের মধ্যে বিধানসভায় পাশ করাতে হবে। যদিও এই প্রক্রিয়া সময় সাপেক্ষ।

কলকাতা করপরেশন অ্যাক্ট ১৯৮০’র এর ১১৭ নম্বর ধারা অনুযায়ী, যদি কলকাতা পুর প্রশাসন অদক্ষ হিসেবে প্রমাণিত হয়, কাজের ক্ষেত্রে সবদিক থেকে ব্যর্থ হয়, তাহলে রাজ্য সরকার মনে করলে পুর প্রশাসনকে শোকজ করতে পারে। সেই শোকজের উত্তর দিতে হবে পুর প্রশাসনকে। তারপর যদি মনে করে, তাহলে কলকাতা পুর প্রশাসনকে ভেঙে দিয়ে ছ’মাসের জন্য প্রশাসক নিয়োগ করতে পারবে অথবা কোনও নির্দিষ্ট কমিটি দায়িত্ব নিতে পারবে।

যদিও ১১৮ ধারা অনুযায়ী কলকাতা পুর প্রশাসনের বোর্ড ভেঙে দেওয়া যেতে পারে। সেক্ষেত্রে মেয়র এবং মেয়র পারিষদদের ঘর ছেড়ে চলে যেতে হবে। কলকাতা পুরসভার শীর্ষ আমলাদের কথায়, এই দু’টি ধারার কোনওটিই পুর প্রশাসনে আরোপ করা যাবে না। কারণ, কলকাতা পুর প্রশাসনের বোর্ড ভেঙেও দেওয়া হচ্ছে না অথবা সেটি অদক্ষ হিসেবেও প্রমাণিত হয়নি। তাই আইনে দু’টি ধারা থাকলেও এক্ষেত্রে তা লাগু হবে না। সেক্ষেত্রে ৭ মে এর আগে পুরভোট করানো না গেলে কলকাতা কর্পোরেশনের ভবিতব্য তালা ঝোলানোর দিকেই যেতে চলেছে। তাই ভোট কিভাবে দ্রুত করানো যায় এখন সেই দিকেই তাকিয়ে প্রশাসনিক মহল।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here