মহানগর ওয়েবডেস্ক: সময় যত এগোচ্ছে। লাদাখে নিজেদের পায়ের তলার মাটি ততই মজবুত করছে ভারত। গত ২০ দিনে চিন সীমান্তে ছয়টি নতুন পার্বত্য শৃঙ্গ দখল করে এখন অনেকটাই সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে সেনাবাহিনী। ফলে পিপলস লিবারেশন আর্মির তুলনায় আক্রমণাত্মক পজিশন বানাতে সক্ষম হওয়া গিয়েছে। ফিঙ্গার ৪ লাইনে যে পাহাড়গুলি রয়েছে সেখানে ছয়টি শৃঙ্গে এই মজবুত অবস্থান নিয়েছে সেনা।

ভারতীয় সেনার শীর্ষ সূত্রে সর্বভারতীয় ইন্ডিয়া টু ডে-কে জানানো হয়েছে, ‘ফিঙ্গার ৪ লাইনের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ সহ মগর শৃঙ্গ, গুরুং শৃঙ্গ, রচনা লা, মোখপরিতে ভারতীয় সেনারা দখল নিয়েছে।’ প্যাংগং সো লেকের দক্ষিণ থেকে উত্তর সীমানায় ভারতীয় সেনা এমন অবস্থান তৈরি করেছে। বিশেষত, গত ২৯ অগাস্ট প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় চিনা অনুপ্রবেশের পর থেকেই উচ্চতা দখল করার একপ্রকার প্রতিযোগিতা চলছে দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে। গত ২০ দিন ধরে চলা এই প্রতিযোগিতায় ভারতই অ্যাডভান্টেজ নিয়ে ফেলেছে বলা চলে।

অন্যদিকে লাদাখে পিছিয়ে পড়ে অরুণাচল প্রদেশ ও নেপালের দিক থেকে ভারতের উপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে চিন। তারই এক নমুনা প্রকাশ্যে এসেছে সম্প্রতি। জানা গিয়েছে নেপালের হুম্লা জেলার নামখা গ্ৰামে গোপনে বিল্ডিং তৈরি করেছে তারা। একটি কিংবা দুটি নয় একেবারে নটি ইমারত তৈরি করা হয়েছে চিনের তরফে। শুধু তাই নয়, ওই ইমারতের পার্শ্ববর্তী এলাকায় নেপালের গ্রামবাসীদের প্রবেশ নিষেধ করে দিয়েছে লাল ফৌজ।

এই তথ্য প্রকাশ এনেছেন ওই গ্রামের পঞ্চায়েত প্রধান বিষ্ণু বাহাদুর লামা। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার দাবি, সম্প্রতি সীমান্তবর্তী গ্রামের ভিতরে এতগুলি ইমারতকে তৈরি করেছে তা জানতে এলাকায় গিয়েছিলেন ওই পঞ্চায়েত প্রধান। তবে তাকে ওই অঞ্চলে প্রবেশ করতে দেয়নি চিনের সেনাবাহিনী। এরপর বহু দূর থেকে নিজের মোবাইলে চিনের ওই নির্মাণ কার্যের ছবি তোলেন তিনি। তার দাবি চিন-নেপাল সীমান্ত থেকে নেপালের অন্তত এক কিলোমিটার ভিতরে ৯টি ইমারত তৈরী করেছে চিনের সেনা। এ প্রসঙ্গে ওই অঞ্চলে নিয়োজিত চিনের সেনা আধিকারিকের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন তিনি। তবে তার সঙ্গে দেখা করতে ব্যর্থ হন লামা। তার অভিযোগ নেপালের মানুষের নিজের জমিতে তাদের প্রবেশ করতে দিচ্ছে না চিনের সেনাবাহিনী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here