kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: চাণক্য সেই কবেই বেল গিয়েছিলেন বিদ্যান সর্বত্র পুজ্যতে৷ তবে মুখে চাণক্য বললেও দেশের হিন্দুর স্বঘোষিত ধ্বজাধারী ও তাদের দল চাণক্য থকে বিবেকানন্দর উদারতা খায় না মাথায় মাখে জানে না৷ জানতে চায় না৷ বুঝতেও চায় আন৷ তাদের একমাত্র লক্ষ্য হিন্দু মৌলবাদ৷ যা দেশকে আলোর বদলে অন্ধকারেরর দিকে ঠেলে দিচ্ছে৷ তবে এর মধ্যেও এমন কিছু সংগঠন আচে, যারা মানুষকে একশ বছরেরও বেশি সময় ধরে আলো দেখিয়ে আসছে৷ তেমনই একটি সংগঠন রামকৃষ্ণ মিশন৷ স্বামী বিবেকানন্দর আদর্শে গঠিত এই সংগঠনের ট্যগ লাইন- সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই৷বাঙালি কবির এই মহাপ্রত্যয়ে আস্থাশীল বেলুড় রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যামন্দিরের কর্তৃপক্ষ। এই বিশ্বাস নিয়েই চলে তাঁদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাই শিক্ষক কোনও ধর্মের বা কোনও বর্ণের, সেটা কখনওই সেখানে বিবেচ্য নয় বলেই জানিয়ে দিচ্ছেন তাঁরা।

বহু বছর আগে তখন বেলুর মঠের কলেজ ছিল, বিশ্ববিদ্যালয় হয়নি৷ সেই সময় এক মুসলিম সংস্কৃতে অনার্সে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন৷ পরে তিনি বেলুর কলেজের সস্কৃতের অধ্যাপক হন৷ তাই মুসলিম শিক্ষকের কাছে সংস্কৃত পড়বেন না বলে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা যখন বিক্ষোভে শামিল হয়েছেন, সেই সময়েই বেলুড়ের ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রমজান আলির কাছে সংস্কৃতের পাঠ নিচ্ছেন পড়ুয়ারা। কয়েক দিন আগে রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যামন্দিরে সংস্কৃত বিভাগে সহকারী শিক্ষকের পদে যোগ দিয়েছেন রমজান। তাঁরই সঙ্গে যোগ দিয়েছেন গণেশ টুডু নামের আরও এক শিক্ষক। কলেজ সার্ভিস কমিশন (সিএসসি) থেকেই তাঁদের নাম সুপারিশ করা হয়েছিল।

গোখলে যথার্থই বলেছিলেন বাংলা আজ যা ভাবে, কাল তা ভাবে ভারত৷ সেই সময় ভারতের রাজধানী ছিল কলকাতা৷ তবে অসাম্প্রদায়িক বা ধর্মীয় সহিষ্ণুতার দিক থেকে বেনারসের চেয়ে সহস্র যোজন এগিয়ে বাংলা৷ এগিয়ে কলকাতা৷ দর্শন, রসায়ন, পরিসংখ্যান-সহ আরও কয়েকটি বিভাগ মিলিয়ে ৭-৮ জন মুসলিম শিক্ষক আগে থেকেই সেখানে পড়াচ্ছেন। তাই রমজানের যোগ দেওয়াটা নতুন কিছু নয় বলেই মনে করেন ওই কলেজের অধ্যক্ষ স্বামী শাস্ত্রজ্ঞানন্দ। তিনি বলেন, ‘স্বামী বিবেকানন্দ বলতেন, ‘প্রত্যেক মানুষের ভিতরেই সেই অনন্ত দেবত্ব রয়েছে। তাকে বিকশিত করাই আমাদের লক্ষ্য।’ তাই কোন শিক্ষক কোন ধর্মের বা কোন বর্ণের, সেটা তো দেখার কথাই নয়।’ ওই কলেজেই দীর্ঘদিন ধরে বেদান্ত পড়াচ্ছেন দর্শন বিভাগের প্রধান শামিম আহমেদ। তাঁর কথায়, ‘বিদ্যামন্দিরের ছাত্রদের কাছে উনি (রমজান) এক জন মাস্টারমশাই। তিনি কেমন পড়াচ্ছেন, শুধু সেটাই দেখছেন পড়ুয়ারা। এবং এটাই রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের বৈশিষ্ট্য।’

রামকৃষ্ণ নিজে ইসলাম ধর্ম নিয়েছিলেন এক সময়৷ বেলুড় মঠে এখনও যীশু পুজো হয়৷ শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ, শ্রীশ্রী মা সারদা এবং স্বামী বিবেকানন্দের মনুষ্যত্বের আদর্শই মিশন পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আদর্শ বলে জানাচ্ছেন সন্ন্যাসীরাও। বেলুড়ের ওই কলেজের সম্পাদক স্বামী দিব্যানন্দের কথায়, ‘অন্য ধর্ম বা বর্ণের শিক্ষক এখানে যোগ দিলে তাঁদের সঙ্গে এমন ভাবে আচরণ করা হয়, যাতে তাঁরাও ভুলে যান, কোনও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কলেজে পড়াচ্ছেন। শ্রীরামকৃষ্ণদেবই তো বলেছেন, যত মত তত পথ।’ শিক্ষা শিবিরের বক্তব্য, এই বাংলা শিক্ষককে শিক্ষক হিসেবেই দেখে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here