ডেস্ক: উরির থেকেও ভয়ঙ্কর জঙ্গী হামলার সাক্ষী থাকল জম্মুর শ্রীনগর। বৃহস্পতিবার শ্রীনগর-জম্মু জাতীয় সড়ক দিয়ে CRPF-এর একটি কনভয় যাচ্ছিল। কনভয়ে ৭০টি ভ্যান ছিল। সেইসময় ৩৫০ কেজি বিস্ফোরক বোঝাই একটি স্করপিও গাড়ি নিয়ে এক জঙ্গি কনভয়ের ভ্যানে ধাক্কা মারে। তারপরই বিস্ফোরণ হয়।সেনার গাড়িতে ধাক্কা মারার পর গুলিবৃষ্টি শুরু হয় জওয়ানদের লক্ষ্য করে। প্রথমে বিস্ফোরণ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় জওয়ানদের দেহ, পরে তাদের লক্ষ্য করে রীতিমতো গুলিবৃষ্টি চালানো হয়। সেই আত্মঘাতী হামলাতেই মৃত্যু ঘটে ৪৫ জন সিআরপিএফ জওয়ানদের।

পুলওয়ামায় এই আত্মঘাতী হামলায় মৃত্যু হয়েছে এই রাজ্যের এক সেনা জওয়ানের। সূত্রের খবর, মৃত যুবক হাওড়ার বাউরিয়ার চককাশী গ্রামের বাসিন্দা। মৃতের নাম বাবলু সাঁতরা। হিমাচল প্রদেশ থেকে একেবারে তাঁকে কাশ্মীরে পোস্টিং করা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয় মৃত সেনা জওয়ানের পরিবার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ঘটনার দিন সকালে বাবলু তাঁর স্ত্রী মিতাকে ফোন করে বলেছিলেন যে তিনি শ্রীনগরের দিকে যাচ্ছেন। এরপরই টিভিতে হামলার খবর দেখে বহুবার ওই সেনা জওয়ানের পরিবারের তরফে তাআকে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এরপর সেনাবাহিনীর তরফে প্রকাশ করা মৃত সেনা জওয়ানদের নামের তালিকায় বাবলু সাঁতরার নাম ছিল। এই তথ্য পাওয়ার পরই পুলওয়ামায় আত্মঘাতী হামলায় মৃত জওয়ানের পরিবারে স্বাভাবিকভাবেই শোকের ছায়া নেমেছে।

প্রসঙ্গত, গতকালের এই আইইডি বিস্ফোরণের ঘটনায় রক্তাক্ত হয়ে যায় জম্মু শ্রীনগর জাতীয় সড়ক। এই হামলার দায় কার সেই নিয়েও পাকিস্তানের দিকেই অভিযোগের আঙুল তোলা হয়েছে। যদিও পাক সরকারের তরফে সমস্ত দায় অস্বীকার করা হয়েছে। পাক সরকারের দেওয়া একটি বিবৃতিতে বলা হয়েছে তারা সবসময়ই যে কোনওরকম সন্ত্রাসবাদী মূলক হামলার ঘোর বিরোধিতা করে এসেছে এবং এই গতকালের ৪৪ ভারতীয় জওয়ানের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে। অন্যদিকে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে জঈশ-ই-মহম্মদ জঙ্গিগোষ্ঠী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here