পড়ুয়ার অভাবে বন্ধ হতে বসেছে রাজ্যের কয়েকশো বিএড কলেজ

0
74
b ed

রূপম চট্টোপাধ্যায়: রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে সংকট চরমে। ২০১৫ সাল থেকে স্কুলে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে রাজ্য সরকারের ব্যর্থতা চরমে পৌঁছল। যার ফলে শিক্ষক শিক্ষণ অর্থাৎ বিএড কলেজগুলিতে আর ছাত্রছাত্রীরা ভর্তি হতে চাইছেন না। দ্বিতীয় দফায় আজ, ১৪ আগস্ট ছিল বিএড-এ ভর্তির শেষদিন। ২৫,০০০ আসনে কোনও ছাত্রছাত্রী পাওয়া গেল না। পড়ুয়ার অভাবে তাই বন্ধ হতে বসেছে রাজ্যের কয়েকশো বিএড কলেজ। যার ফলে চাকরি হারাতে চলেছেন বিএড-এর কয়েকশো অধ্যাপক।

রাজ্যে এইমুহূর্তে ১৮টি সরকারি বিএড কলেজ আছে। এছাড়াও বেসরকারি বিএড কলেজের সংখ্যা ৪৩০। মোট আসন ৪০ হাজার। বুধবার শেষদিন পর্যন্ত ভর্তি হয়েছেন ১৪,৮৩৫ জন। রাজ্যে উচ্চপ্রাথমিক, নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণিতে শিক্ষকতা করতে গেলে বিএড লাগবেই। এই নিয়ম ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত করেছে ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি)। কিন্তু রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের ধাক্কায় স্কুলগুলিতে পদ থাকা সত্ত্বেও শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ। শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে কাটমানি আর মামলার জেরে শেষমেশ রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষক হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ হারাচ্ছেন। যার ফলে আসন খালি পড়ে থাকলেও বিএড-এর ছাত্রছাত্রী মিলছে না।

হুগলির জেনেক্স কলেজ অব এডুকেশন বিএড-এর বদলে ফার্মাসি কোর্স চালু করেছে। এভাবেই বেশ কিছু বিএড কলেজ কর্তৃপক্ষ অন্য কোর্স চালু করে কলেজকে বাঁচাবার চেষ্টা করছেন। ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কলেজ শিক্ষকদের চাকরির মেয়াদ ৬০ থেকে ৬৫ করেছে। ফলে কলেজগুলিতে নতুন শিক্ষক নিয়োগ কার্যত বন্ধ। এবার রাজ্যের স্কুলগুলিতেও বন্ধ হতে চলেছে শিক্ষক নিয়োগ। কেন্দ্রীয় সরকার পাঁচটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের বেতন আটকে দিয়েছে। অতিথি অধ্যাপকদের ছাঁটাইয়ের অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন গোটা দেশ জুড়ে শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের ওপর চেপে বসতে চলেছে নৈরাজ্যের কালো ছায়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here