kolkata bengali desk

মহানগর ওয়েবডেস্ক: প্রথমে বিরাট, রাহানে, জাদেজার ব্যাট হাতে ভেল্কি ও বেলাশেষে উমেশ, শামির গতির আগুন। দুইয়ের মিশেলে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শেষেই জয়ের গন্ধ পেয়ে গেল ভারত। যে পিচে ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা কামাল দেখালেন প্রায় দুই দিন ধরে, সেই পিচেই কেমন যেন ভারতীয় বোলিং একেবারে কেসি নাগের জটিল অঙ্ক হয়ে উঠল প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানদের কাছে। সেই জটিল প্রশ্নের কোনও উত্তর তৈরিই ছিল ফাফ ডু’প্লেসির দলের। ফলে যা হওয়ার হল তাই। দ্বিতীয় দিনের শেষেই বিপাকে অতিথিরা। তৃতীয় দিন বড় জুটি না গড়তে পারলে হার বাঁচানো বেশ কঠিন হবে প্রোটিয়াদের।

প্রথমদিন ৩ উইকেটের বিনিময়ে ২৭৩ রান করার পর দ্বিতীয় দিন সকালে ব্যাট করতে নামেন কোহলি ও অজিঙ্কা। পিচে হালকা ঘাস থাকায় শুরুর দিকে কিছুটা সহায়তা পাচ্ছিলেন রাবাডা, ফিল্যান্ডাররা। বল মোটামুটি কিপার পর্যন্ত ভালই ক্যারি করছিল। সেই কারণে শুরুতে কিছুক্ষণ বেশ বুঝে শুনেই খেলছিলেন দুই ভারতীয় তারকা।

কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বল পুরনো হতেই একেবারে নির্বিষ হয়ে যান প্রোটিয়া বোলাররা। রাবাডা একা তাও একটু চেষ্টা করছিলেন ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের বিপাকে ফেলতে। তবে তাতে লাভের লাভ কিছু হয়নি। হাফ সেঞ্চুরি করেন অজিঙ্কা রাহানে। তবে তারপর কেশব মহারাজের বলে আউট হয়ে ফিরে যান তিনি (৫৯)।

এরপরেই শুরু হয় কোহলি ও জাদেজার জাদু। পুনেতে দ্বিতীয় দিন প্রথমে ১০০, তারপর ২০০ রান করার পর ২৫০ রানও করেন ভিকে। তাও একেবারে টি২০ মেজাজে। এটাই কোহলির টেস্টে প্রথম ২৫০ রান। একই সঙ্গে শচীনের টেস্টে সর্বোচ্চ ২৪৮ রানের মাইলস্টোনও ছাপিয়ে যান তিনি। ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টেস্টে শতরান করার দশমাস পর এদিন সকালে ২৬তম টেস্ট শতরান করেন বিরাট। দুরন্ত রাবাডা, চাপ সৃষ্টিকরা আনরিখ বা ফিল্যান্ডারদের সামলে ২৬ তম টেস্ট শতক হাঁকান তিনি। রোহিত ওপেনার হিসেবে প্রথম টেস্টে জোড়া শতক হাঁকালেও, ভাইজ্যাকে সেইভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি কিং কোহলি। ফলে কিছুটা চাপেই ছিলেন তিনি। তবে দ্বিতীয় টেস্টে রোহিত ফ্লপ হতেই জ্বলে উঠল তাঁর ব্যাট। গতকাল ধৈর্যশীল ১০৫ বলে ৬৩ রান করে অপরাজিত থাকার পর দ্বিতীয় দিনও বেশ সাবধানী ব্যাটিং করছিলেন কিং কোহলি। তিন অঙ্কের রানে পৌঁছনোর জন্য যে কতটা মরিয়া ছিলেন তিনি, তা তাঁর ব্যাটিং দেখলেই বোঝা যাচ্ছিল। অবশ্য দুইবার স্লিপে প্রায় ক্যাচ দিয়েই দিয়েছিলেন তিনি। ফলে আরও বেশি সাবধানী হয়ে যান। এমনকি শর্ট রানের ক্ষেত্রেও বেশ সাবধানী ছিলেন তিনি। অযথা ঝুঁকি একেবারেই নৈব নৈব চ। অবশেষে ফিল্যান্ডারকে স্ট্রেট ড্রাইভে চার মেরে ১৭৪ বলে শতরান পূর্ণ করেন তিনি।

এদিন ১৫০ রানের গণ্ডি পেরনোর পরেই কোহলির সপ্তম দ্বিশতরানের আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছিলেন তাঁর ভক্তরা। সেই লক্ষ্যে খেলেন কোহলি নিজেও। শেষমেশ ১৪৪ তম ওভারে মুথুস্বামীর বলে দুই রান নিয়ে সপ্তম ডবল সেঞ্চুরি করেন ভিকে। একই সঙ্গে টেস্টে মোট রানের ভিত্তিতে টপকে যান ডন ব্র্যাডম্যানের রেকর্ড। পাশাপাশি টেস্টে ১৩৮টি ইনিংসে ৭০০০ রানের মাইলফলকে পৌঁছান তিনি।

২০০ রান পূর্ণ করেই গিয়ার শিফট করেন ভারত অধিনায়ক। প্রোটিয়া স্পিনারদের ঠেঙিয়ে খুব অল্প সময়েই ২৫০ রান করে ফেলেন তিনি। একটা সময় ওভার প্রতি ১০ রান করে উঠল। মাঝে মাঝে টেস্ট খেলা না টি২০ খেলা হচ্ছে। কোহলির সঙ্গে সঙ্গে দুরন্ত ব্যাটিং করেন স্যার জাদেজাও। যদিও অল্পের জন্য সেঞ্চুরি মিস করেন তিনি। ৯১ রানে মুথুস্বামীর বলে ক্যাচ আউট হন জাদেজা। এরপরেই ৬০১/৫ রানে ইনিংস ডিক্লেয়ার করে দেন কোহলি। ২৫৪ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকার বোলারদের মধ্যে ৩ উইকেট নেন রাবাডা। একটি করে উইকেট দুই স্পিনার মুথুস্বামী ও মহারাজের।

এরপর ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধস নামে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং লাইন আপে। প্রথম ধাক্কাটা দেন উমেশ যাদব। পরপর তিনি ফেরান দুই ওপেনার ডিন এলগার (৬) ও আইডেন মার্ক্রামকে (০)। আসরে যোগ দেন মহম্মদ শামিও। তাঁর প্রথম বলেই কট বিহাইন্ড হন তেম্বা বাভুমা (৮)। শেষমেশ দ্বিতীয় দিনের শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ৩৬/৩। ক্রিজে আছেন দে ব্রুইন (২০*) ও আনরিখ নর্থে (২*)। এখনও তারা ভারতের থেকে ৫৬৫ রানে পিছিয়ে।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here