covid news

মহানগর ডেস্ক: করোনার দ্বিতীয়দফা সংক্রমণের ওপর যতদিন না লাগাম পরানো যাচ্ছে, ততদিন বিদেশে রেমডেসেভির রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক৷ কারণ, করোনার দাপট আবার নতুন করে ফিরে এসেছে৷ বিশেষজ্ঞদের একাংশের অভিমত, এবার করোনা ভাইরাস আরও বেশি শক্তিশালী হয়েছে৷ তাই দৈনিক সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে৷ যাকে কোনওভাবেই কমানো সম্ভবপর হচ্ছে না৷ কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী নতুন করে আছড়ে পড়ছে সুনামির ঢেউয়ের মতো৷ ফের লকডাউনের পথে এগিয়েছে মহারাষ্ট্র৷ দিল্লির কেজরিওয়াল সরকার অবশ্য পুরোপুরি লকডাউনের দিকে না এগিয়ে স্বাস্থ্যবিধিতে কড়াকড়ি করছে৷ নাইট কারফিউ লাগু করেছে একাধিক রাজ্য সরকার৷

পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েকদিনে দৈনিক সংক্রমণ দেড় লক্ষ ছাড়িয়ে যাচ্ছে৷ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আজ থেকেই দেশজুড়ে করোনার টিকাকরণ উৎসব শুরু হয়েছে৷ ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজেও ভ্যাকসিনের দুটো ডোজ নিয়েছেন৷ একইসঙ্গে করোনার লাগামছাড়া সংক্রমণের বিষয়টা মাথায় রেখে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ রেমডেসেভির বিদেশে রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করল কেন্দ্র সরকার৷ পরিস্থিতি যতদিন না স্বাভাবিক হচ্ছে বা নিয়ন্ত্রণে আসছে, ততদিন এই নিষেধাজ্ঞা থাকবে বলে জানা গিয়েছে৷ আজ ১১ এপ্রিল দেশে আক্রান্ত হয়েছেন ১১ লক্ষাধিক৷ তাই করোনা চিকিৎসায় রেমডেসেভির চাহিদা দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে৷ তাই আপাতত এই অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ রফতানি বন্ধ রাখতে বাধ্য হল ভারত সরকার৷

উল্লেখ্য, আমেরিকার জিলিড সায়েন্স-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ভারতের ৭টা ওষুধ প্রস্তুতকারক কোম্পানি এই রেমডেসেভির তৈরি করে৷ প্রতি মাসে গড়ে ৩৮ লক্ষ ৮০ হাজারের মতো এই ওষুধ তৈরি হয়৷ রফতানি বন্ধের পাশাপাশি এর কালোবাজারি রুখতেও কড়া নজরদারি শুরু হয়েছে৷ করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে গত ৮ এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক রাজ্যকে ৭০ শতাংশ আরটি-পিসিআর টেস্ট করার লক্ষ্যমাত্রা নিতে বলা হচ্ছে৷ এখন যেহেতু অধিকাংশ করোনা রোগি উপসর্গহীন, তাই আক্রান্তের হার ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপের আর্জি জানান প্রধানমন্ত্রী৷ গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লক্ষ ৫৩ হাজারের মতো৷ মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৯০০ জনের৷ সব মিলিয়ে এখন দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১ কোটি ৩৩ লক্ষ পেরিয়ে গেল৷ মোট সংক্রমণের ৭২ শতাংশই পাঁচ রাজ্যে৷ সবার শীর্ষে রয়েছে মহারাষ্ট্র৷ তারপর যথাক্রমে কর্ণাটক, কেরল, উত্তরপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড়৷ এর মধ্যে প্রায় ৫২ শতাংশই মহারাষ্ট্রে৷ পশ্চিমবঙ্গের সরকারি অফিসগুলোতে ৫০ শতাংশ বা অর্ধেক কর্মচারী নিয়ে কাজ চালানোর নির্দেশিকা লাগু হয়েছে৷ গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে৷ মৃত ১২জন৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here