দ্বিতীয় ইনিংসেও শতরান রোহিতের, শেষদিনে জয়ের জন্য ভারতের চাই ৯ উইকেট

0
kolkata bengali news

নিজস্ব প্রতিবেদন: বিশাখাপত্তনম টেস্টের জয়ের হাতছানি ভারতের সামনে। চতুর্থ দিন খেলা শেষ হওয়ার আগেই ৪ উইকেট হারিয়ে ৩২৩ রানে ডিক্লেয়ার দেয় ভারত। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ১ উইকেটের বিনিময়ে ১১ রান তোলে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে পঞ্চম দিনে ৯ উইকেট তুলে নিলেই সিরিজের প্রথম টেস্টে জয়ের মুখ দেখতে পাবে ভারত। অন্যদিকে প্রোটিয়াদের সামনে লক্ষ্য পাহাড়প্রমাণ। জিততে হলে শেষ দিনে তাদের প্রয়োজন ৩৮৪ রান। ভাঙা পিচে বল যেভাবে ঘুরছে, কখনও আবার লাফাচ্ছে, তাতে এই স্কোর তাড়া করা অসম্ভব বলেই ধরে নিচ্ছেন ক্রিকেট বোদ্ধারা।

দ্বিতীয় ইনিংসেও এদিন ওপেনার হিসেবে প্রথম টেস্ট খেলতে নেমে দুরন্ত ছন্দে খেলেন রোহিত শর্মা। প্রথম ইনিংসে শতরান হাঁকানোর পর দ্বিতীয় ইনিংসেও হাফ সেঞ্চুরি করলেন তিনি।

প্রায় পৌনে দুদিন ব্যাট করে ৫০২/৭ রানে প্রথম ইনিংসে ডিক্লেয়ার দিয়েছিল ভারত। জবাবে দ্বিতীয় দিন ব্যাট করতে নেমেই ৩৯ রানে ৩ উইকেট খুইয়ে ধুঁকছিল প্রোটিয়ারা। সেখান থেকে তৃতীয় দিন দুরন্ত লড়াই করেন এলগার, ডি’কক, ডু’প্লেসিরা। প্রথমে প্রত্যাঘাত শুরু করেন এলগার ও ফাফ। দুজনে মিলে ১১৫ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তুলে দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন। যদিও ব্যক্তিগত ৫৫ রানের মাথায় ফিরে যান ফাফ। তাঁকে ফেরান অশ্বিন।

এরপর কুইন্টন ডি’কককে নিয়ে ক্রিজে থিতু হয়ে যান ডিন এলগার। অশ্বিনকে ছক্কা হাকিয়ে সেঞ্চুরি করেন তিনি। হাসিম আমলার পর (২০১০) তিনিই একমাত্র প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান যিনি ভারতের বিরুদ্ধে শতরান করেন। সেই শতরানকে অচিরেই দেড়শোর ঘরেও নিয়ে যান তিনি। যদিও ৭৪ রানের মাথায় জাদেজার বলে এলগারের ক্যাচ ফেলেছিলেন ঋদ্ধিমান। ডি’কক ও এলগারের দাপটে যখন একেবারেই হতাশ হয়ে পড়েছিলেন ভারতীয় বোলাররা, তখনই দলকে খেলায় ফেরান ‘স্যার’ জাদেজা। তাঁর বলে সুইপ করতে গিয়ে লং অফে ক্যাচ তুলে দেন ডিন। দৌড়ে এসে ঝাঁপিয়ে পরে সেই বল তালুবন্দি করেন চেতেশ্বর পূজারা। ২৮৭ বলে ১৬০ রান করেন ফেরেন ডিন এলগার।

এলগার আউট হলেও অন্যপ্রান্তে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে লড়ে যান কুইন্টন ডি’কক। এলগারের পাশাপাশি ভারতের মাটিতে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করেন তিনিও। এছাড়া প্রোটিয়া কিপার হিসেবে ভারতের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ রানও করেন তিনি। তবে তৃতীয় দিনের শেষ সেশনে কামব্যাক করেন ভারতীয় বোলাররা। ১০ তম ওভারে ডি’কককে ঘূর্ণির জালে বোকা বানিয়ে প্যাভিলয়নে ফেরান অশ্বিন। তৃতীয় দিনের শেষে ৮ উইকেটের বিনিময়ে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ছিল ৩৮৫।

চতুর্থ দিন দুই উইকেট হাত নিয়ে অবশ্য বেশিক্ষণ লড়াই চালাতে পারেনি প্রোটিয়া শিবির। প্রথমে কেশব মহারাজকে ফেরান অশ্বিন। এরপর কিছু সময় মুথুস্বামী একটু চেষ্টা করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ৪৩১ রানে শেষ হয় দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংস। একাই ৭ উইকেট নিয়ে ভারতকে ৭১ রানের লিড এনে দেন অশ্বিন। দুটি উইকেট জাদেজার ও একটি উইকেট ইশান্তের।

৭১ রানের লিড নিয়ে খেলতে নেমে অবশ্য শুরুতেই মহারাজের শিকার হন মায়াঙ্ক (৭)। এরপর রোহিত ও পূজারা ম্যাচের হাল ধরেন। যদিও ৮১ রান করে ফিল্যান্ডারের শিকার হন পূজারা। চেতেশ্বর সেঞ্চুরি মিস করলেও দ্বিতীয় ইনিংসেও সেঞ্চুরি হাঁকান রোহিত। হাতে আর একদিন থাকায় এরপর টেস্ট থেকে টি-২০ মোডে গিয়ার শিফট করেন শর্মাজি ও স্যার জাদেজা। দুজনে মিলে চার, ছয়ের বন্যা বইয়ে দেন। চলতি টেস্টে দ্বিতীয়বার স্ট্যাম্প আউট হয়ে রোহিত (১২৭) প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলেও রানের গতি পড়তে দেননি বিরাট কোহলি। একটা সময় রোহিত, জাদেজা ও কোহলি মিলে ১৩ ওভারে তুলেছিলেন ৯৮ রান। যদিও রানের গতি বাড়াতে গিয়ে রাবাডার শিকার হন জাদেজা (৪০)।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here