মহানগর ওয়েবডেস্ক: লাদাখ সীমান্তে আপাতত ভারত–চিন পারস্পরিক সম্পর্কের সামান্য উন্নতি ঘটলেও ভারতের অর্থনীতিতে চিনের আধিপত্য রুখতে বদ্ধপরিকর নরেন্দ্র মোদী সরকার। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, চিনের ৫০টি সংস্থার বিনিয়োগের প্রস্তাব কেন্দ্রীয় মন্ত্রক পুনর্বিবেচনা করতে শুরু করেছে।

এপ্রিল মাসে জারি হওয়া নতুন আইন অনুযায়ী ভারতের লাগোয়া প্রতিবেশী দেশগুলির থেকে কোনও বিনিয়োগ আনতে গেলে সরকারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। সেই বিনিয়োগ সম্পূর্ণ নতুন হতে পারে বা পুনর্বিনিয়োগও হতে পারে। ভারতের মধ্যে চিনই ছিল সব থেকে বড় বিনিয়োগকারী দেশ। খুব স্বাভাবিক ভাবেই এই নতুন আইনটি চিনের মনপসন্দ হয়নি এবং আইনটিকে পক্ষপাতমূলক বলে অভিযোগ জানানো হয় বেজিং–এর পক্ষ থেকে।

করোনাভাইরাস অতিমারীর সুযোগ নিয়ে চিন ভারতের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রগুলিতে নিজের প্রভাব বাড়াতে পারে এই সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করেই এপ্রিল মাসে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আইনটি সংশোধন করা হয়। বর্তমানে পূর্ব লাদাখের গালোয়ানে ভারত–চিন সেনা সংঘর্ষ ও ২০ জন জওয়ানের শহিদ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে চিনের বিনিয়োগকারীদের পক্ষে সরকারি অনুমোদন পাওয়া অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। একই কারণে ৫০টি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পুনর্বিবেচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে অভিমত সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকদের।

সীমান্তে সংঘর্ষের প্রভাব বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কী ভাবে পড়তে পারে প্রশ্ন করা হলে এক উচ্চপদস্থ সরকারি আধিকারিক বলেন, এখন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ”একাধিক ক্লিয়ারেন্স প্রয়োজন। আমরা এখন যতটা ভাবা যায় ঠিক ততটাই সতর্ক।” বাণিজ্য মন্ত্রকের অধীনে শিল্প দফতর এই নতুন নীতির খসড়া প্রণয়ন করেছে। যদিও সংবাদ মাধ্যম থেকে সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা কোনও মন্তব্য করতে চায়নি।

কোন কোন কোম্পানির বিনিয়োগ পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে সেটিও গোপনীয়তার কারণে প্রকাশ করা হয়নি। একটি সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ভারতের একাধিক এজেন্সি ও চিনে অবস্থিত ভারতের দূতাবাসের মাধ্যমে বিনিয়োগকারী সংস্থাদের কাছ থেকে বিনিয়োগ প্রস্তাব সম্পর্কে বিভিন্ন ব্যাখ্যা চাওয়া হচ্ছে। উল্টোদিক থেকে চিনের বেশ কিছু বিনিয়োগকারী সংস্থা ভারতের বিভিন্ন ল’ ফার্মের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে বলে জানা গিয়েছে। গোটা প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা চিনের বিনিয়োগকারী এবং তাদের সঙ্গে সংযুক্ত ভারতীয় সংস্থাকে কিছুটা হতোদ্যম করে দিচ্ছে বলে সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন এক ল’ ফার্মের অংশীদার।

গত সপ্তাহেই ৫৯টি অ্যাপ নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় চিন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভারতে যথেষ্ট ধাক্কা খেয়েছে। এবার ৫০টি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। লাদাখের আগ্রাসী মনোভাবের দাম আপাতত চিনকে মেটাতে হচ্ছে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে। ভারতে চিনের বর্তমান ও ভবিষ্যতের পরিকল্পিত বিনিয়োগের পরিমাণ ২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে জানিয়েছে রিসার্চ গ্রুপ ‘ব্রুকিংস’।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here