ডেস্ক: গত কয়েকদিন ধরে ফেসবুককে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। ফেসবুককে মাধ্যম করে তথ্য ফাঁসের মাধ্যমে নির্বাচনে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগে একে অপরকে দুষছে দেশের শাসকদল ও বিরোধী পক্ষ বিজেপি-কংগ্রেস। এরই মাঝে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য ফাঁস-কাণ্ডে এবার ব্রিটিশ কনসাল্টিং সংস্থা কেমব্রিজ অ্যানালিটিকাকে নোটিস পাঠাল ভারত সরকার। ভারত থেকে কে বা কোন রাজনৈতিক দল অ্যানালিটিকার থেকে তথ্য নিয়েছে তা জানতে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এবং আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে এই জবাব তলব করেছে কেন্দ্র।

ফেসবুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে অনুমতি ছাড়াই কোটি কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য চুরি করেছে অ্যানালিটিকা। আর তা দিয়েই ভারতের নির্বাচনে প্রভাব ঘটানো হচ্ছে। যে বা যাঁরা এই সংস্থার কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছেন তাদের নামের তালিকা পাঠাতে হবে। পাঠাতে হবে সেই তথ্য সংগ্রহের উৎসও। পাশাপাশি নোটিসে ছ’দফা প্রশ্নও রাখা হয়েছে কেন্দ্রের কাছে। উল্লেখ্য, গত ২১ মার্চ এই অভিযোগের ভিত্তিতে ফেসবুকের সিইও মার্ক জু়কেরবার্গকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন কেন্দ্রীয় তথ্য প্রযুক্তিমন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ। তিনি স্পষ্ট জানান, ফেসবুক ও সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে ভারতের নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করলে তা কোনও মতেই মেনে নেওয়া হবে না। তাঁর আরও অভিযোগ, সোশাল মিডিয়ায় রাহুল গান্ধির প্রচারের বিষয়টি দেখভাল করে ওই ব্রিটিশ সংস্থা। যদিও রাহুল দাবি করে, ইরাকে ৩৯ জন ভারতীয়র মৃত্যু থেকে নজর ঘরানোর জন্যই এই মিথ্যা প্রচার করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ভারতের তরফে এই অভিযোগ ওঠার পরই ফেসবুকের ত্রফেও ক্ষমা চেয়ে নেন ফেসবুকের সিইও মার্ক জুকারবার্গ। তিনি বলেন, ‘ভারত-সহ কোনও দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার কোনও অভিপ্রায় ফেসবুকের নেই।’ এই দীর্ঘ জল্পনার মধ্যই একান্ত আবেগের সুরে জুকারবার্গ লেখেন, ‘ব্যবহারকারীদের সমস্ত তথ্য সুরক্ষিত রাখা আমাদের কর্তব্য। যে দিন সেই কাজে আমরা ব্যর্থ হব, সেই দিনই আমরা সরে আসব। গোটা বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করছি ঠিক কি হয়েছিল।’ এরপর এদিন কেন্দ্রের তরফে জবাব চেয়ে নোটিশ পাঠানো হল অ্যানালিটিকার কাছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here