ফুটবলের মক্কায় অবিচ্ছেদ্য গঙ্গা-পদ্মা, আদিলের গোলে মানরক্ষা ভারতের

0
kolkata bengali news

ভারত- ১ (আদিল ৮৯’)     বাংলাদেশ- ১ (সাদ ৪২’)

সায়ন মজুমদার: প্রায় ৫৫ হাজারের বেশি দর্শক। কানায় কানায় ভর্তি গ্যালারি। সাম্প্রতিক সময়ে বড় ম্যাচেও এত দর্শক সমাগম হয়না ফুটবলের মক্কায়। কাউকে যদি হটাৎ আজকের সল্টলেক স্টেডিয়ামে ছেড়ে দেওয়া হয়, তিনি হয়তো ভাববেন কোনো আন্তর্জাতিক ট্রফির ফাইনাল চলছে। ফিফা কোয়ালিফায়ারে ম্যাচ ঘিরে এতটাই ছিল উন্মাদনা। ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান, মহামেডান ভুলে ভারতীয় সমর্থক হয়ে মাঠ ভরিয়েছিলেন গোটা বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষ।

kolkata bengali news

কোয়ালিফায়ার রাউন্ডে প্রথম জয়ের জন্য মঞ্চ তৈরিই ছিল। কিন্তু হতে হতেও হলো না। ভালো ফুটবল খেলেও ডিফেন্সের ভুলে হারের দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল ভারত। যদিও শেষ মুহূর্তে আদিলের গোলে এক পয়েন্ট নিশ্চিত করল ব্লু টাইগার্সরা। তবে বাংলাদেশের ভাগ্য ভালো থাকলে আজ খালি হাতেও ফিরতে হতে পারতো সুনীলদের।

নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচে চোট পাওয়ায় এদিনের উত্তেজক ম্যাচে দলে ছিলেন না ডিফেন্সের মূল স্তম্ভ সন্দেশ ঝিঙ্গান। অন্যদিকে ঘরের মাঠে প্রথম একাদশে ছিলেন না প্রীতম কোটাল, শুভাশিস বসুরা। বরং ডিফেন্সে রাহুল ভেকে, আদিল খান, আনাস এডাথোডিকার সঙ্গে আব্দুলকে জুড়ে দিয়েছিলেন ইগর স্টিমাচ। মাঝমাঠে ছিলেন অনিরুদ্ধ, উদানতা, মন্দার ও আশিক। আক্রমণে সুনীলের একটু পিছনে মনবীর।

দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত শেষ হওয়ার পর দর্শকরা সবে হয়তো আসন গ্রহণ করেছেন, খেলা শুরু হয়েছে ২০ সেকেন্ডও হয়নি, এমন সময়েই পেনাল্টির আবেদন এলো বাংলাদেশের তরফ থেকে। বিপক্ষ ইব্রাহিমকে আটকাতে গিয়ে কড়া ট্যাকল করেন রাহুল ভেকে। তার ভাগ্য ভালো রেফারি বাংলাদেশের আবেদনে সাড়া না দিয়ে স্রেফ কর্নারই দিয়েছিলেন। এর কিছুক্ষণ পরেই পাল্টা আক্রমণ থেকে দুরন্ত ভলিতে গোলে শট নেন সুনীল। কিন্তু তৎপর বাংলাদেশী গোলরক্ষক সেই বল গ্রিপ করতে খুব একটা ভুল করেননি। প্রথম ১০ মিনিট বাংলাদেশ কিছুটা চাপ তৈরি করলেও ঘড়ির কাটা গড়াতেই ম্যাচের দখল নেয় ভারত। মূলত ডান প্রান্ত থেকে উদানতার পা থেকে একেরপর এক ক্রস আছড়ে পড়তে থাকে বাংলাদেশ বক্সে। তবে ৩২ মিনিটে ডিফেন্সে আদিলের মারাত্মক ভুল থেকে প্রায় গোল করার জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল বাংলাদেশ।এর কিছুক্ষণ পরেই রাহুলের লং থ্রো ব্যাক হেডে প্রায় বাংলাদেশ জালে জড়িয়ে ফেলেছিলেন মনবীর। যদিও গোলরক্ষন কর্নারের বিনিময়ে দলের পতন রোধ করেন। বাংলাদেশ কিপার দুরন্ত কিছু সেভ করলেও, ৪২ মিনিটে বড় ভুল করে ফেলেন গুরপ্রীত সিং সান্ধু। জামালের ফ্রিকিক আটকাতে গিয়ে আউটিংয়ে বড় ভুল করেন ভারতীয় কিপার। ফলস্বরূপ হেডারে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন সাদ।

বিরতির পর শুরু থেকেই হাই প্রেসিং ফুটবল খেলা শুরু করে ভারত। প্রথম পাঁচ মিনিটের মধ্যেই বেশ কয়েকটি সুযোগও তৈরি হয়। কিন্তু বাংলাদেশের ডিফেন্সিভ ফুটবলের ফলে গোল করতে পারেনি ভারত। বরং এই হাই প্রেসিং ফুটবলের ফলে ইন্ডিয়ান ডিফেন্সে বেশ ফাঁকফোকর তৈরি হচ্ছিল। সেই ফাঁকফোকর কাজে লাগিয়ে খুব কম সময়ে পরপর দুটি গোলের সুযোগ তৈরি করে ফেলেছিল বাংলাদেশ। একবার জীবানের শট ওয়ান টু ওয়ানে সেভ করেন গুরপ্রীত, আরেকবার বল ক্রসবারে লাগে। অন্যদিকে ৫৮ মিনিটে আনাসের হেডার গোল লাইন থেকে ক্লিয়ার করেন ইব্রাহিম। একটি গোললাইন সেভ করেন ভারতীয় ডিফেন্ডার আদিলও। এবারও সেই গুরপ্রীতের ভুল আউটিংয়ে জন্যই। শেষ পনেরো মিনিট খেলায় সমতা ফেরাতে আরো মরিয়া হয়ে ওঠে ভারত। কিন্তু বাংলাদেশ রক্ষণে অনেক বেশি লোক বাড়িয়ে দেওয়ায় ভারতের কাজ বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তবে আলাদা করে বলতে হয় বাংলাদেশের ইয়াসিনের কথা। মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়েও ডিফেন্সে নেতৃত্ব দিলেন তিনি। ৮৮ মিনিটে হঠাৎ করে সুনীলের একটি জোরালো সাইড ভলি কর্নারের বিনিময়ে বাইরে যায়। কর্নার থেকে ভেসে আসা বল হেডারে বাংলাদেশ জালে জড়িয়ে ঝিমিয়ে পড়া যুবভারতীকে জাগান আদিল খান। এরপর অতিরিক্ত সময়ে আর স্কোরবোর্ডে কোনও পরিবর্তন আসে নি।

ম্যাচের পর কিছুটা হতাশ ইগর জানান,

‘আমরা অবশ্যই ভালো খেলেছি। তবে আজ খুব বাজে গোল খেয়েছি। এইরকম বাজে গোল খেলে ম্যাচ যেটা খুব শক্ত হয়ে পরে। তবে ওই আমরা ভালো খেলেছি এটাই বলবো।’

হতাশ বাংলাদেশ কোচ জেমি ডে বলেন, ‘শেষ দুই মিনিট গোল খেয়ে গেলাম। ম্যাচটা জিততে পারতাম। তবে আমরা যে উদ্দেশ্য এখানে এসেছিলাম সেই উদ্দেশ্যে সফল।’

ভারতের প্রথম একাদশ: গুরপ্রীত, রাহুল, আদিল, অনিরুদ্ধ, আব্দুল, সুনীল, মনবীর, উদানতা, মন্দার, আশিক ও আনাস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here