national news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: লোকসভা ও রাজ্যসভায় পাস হয়ে গিয়েছে নাগরিকত্ব বিল। এই নিয়ে দেশের উত্তর পূর্ব অংশ বহু আগে থেকেই উত্তপ্ত। সেই উত্তেজনার আগুনে আরও ঘি ঢালতে আগেই নাগরিকত্ব বিল প্রসঙ্গে মোদী সরকারের সমালোচনা করে সুর চড়িয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। লোকসভায় বিল পাস হতেই গর্জে উঠে ইমরান দাবি করেছিলেন, রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ অর্থাৎ আরএসএসের হিন্দুরাষ্ট্র তৈরির নকশার একটি অংশ এই ক্যাব। এবার ইমরান খানকে ‘নিজের চরকায় তেল দিন’ ঢঙে তুলোধনা করল ভারতীয় বিদেশমন্ত্রক।

বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র রবীশ কুমার পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আক্রমণ করে বলেন, ‘ইমরানের অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গিয়েছে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে মন্তব্য করা। তাঁকে বলব, ভারতের বিষয়ে বেশি করা না বলে পাকিস্তানের যাঁরা সংখ্যালঘু রয়েছেন তাঁদের দিকে নজর দিতে। তাঁদের দিকে কোনও খেয়াল না রেখে ভারতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অবান্তর মন্তব্য করে যাচ্ছেন তিনি।’ এর পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের যেসব অবজ্ঞাপূর্ণ আইনবিধি রয়েছে তার দিকেও যেন নজর দেন পাক প্রধানমন্ত্রী।

উল্লেখ্য, নাগরিকত্ব বিল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ইমরান খান মন্তব্য করেছিলেন, ‘ভারতের লোকসভায় পাশ হওয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের তীব্র বিরোধিতা করছি আমরা। আন্তর্জাতিক স্তরে মানবাধিকারের আইন এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তি, দু’টোই লঙ্ঘন করে এই বিল।’ কেন্দ্রীয় সরকার ও সংঘ পরিবারকে একহাত নিয়ে তিনি লেখেন, ‘এটা আসলে ফ্যাসিবাদী মোদী সরকারের তরফ থেকে প্রচারিত আরএসএসের ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ ডিজাইনের একটা অংশ।’ ইমরানের এই মন্তব্য নিয়ে তীব্র প্রতিবাদে সরব হয় নয়াদিল্লি। এদিন তারই জবাব দেওয়া হল বিদেশমন্ত্রকের তরফ থেকে।

প্রসঙ্গত, ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ তকমা ঝেড়ে সরকারিভাবে ‘হিন্দু রাষ্ট্র’ হওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল ভারতবর্ষ। বুধবার প্রায় ৭ ঘণ্টা নাগাড়ে তর্ক বিতর্ক চলার পর পক্ষে ১২৫টি ভোট নিয়ে রাজ্যসভায় পাশ হয়ে যায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। এই বিলের বিপক্ষে পড়েছে ১০৫টি ভোট। সংসদের উচ্চকক্ষে সংখ্যালঘু হয়েও বিল পাশ করিয়ে নিয়েছে মোদী সরকার। এবার রাষ্ট্রপতির সই সহ আইনের পূর্ণতা পাওয়া বাকি থাকল। বিলটি আইনে পরিণত হলে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের অ-মুসলিম শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত। তবে ধর্মীয় কারণে তারা দেশছাড়া হয়েছেন এমন প্রমাণ দেখানো বাধ্যতামূলক। তবেই মিলবে নাগরিকত্বের অধিকার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here