ডেস্ক: ভারতীয় বায়ু সেনায় যুদ্ধ বিমানের ঘাটতি মেটাতে সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ৩২৪ টি তেজস ফাইটার জেট বিমান কিনতে চলেছে বায়ু সেনা। এই ফাইটার জেটগুলি ভারতের হাতে এলে বায়ু সেনার স্কোয়াড্রনের ঘাটতি খানিকটা কমবে বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা। প্রাথমিকভাবে হ্যালের থেকে ১২৩ টি তেজস কিনছে বায়ুসেনা। এগুলি কিনতে খরচ হবে প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি তেজস ফাইটারগুলি হবে মার্ক ২ সিরিজের। ভারতের দেওয়া শর্ত অনুযায়ী এই বিমানগুলিতে থাকতে হবে অধিক উচ্চতার ব্যালেন্স, উন্নত সামরিক সরঞ্জাম, যার বহন ক্ষমতা বাড়তে হবে আরও বেশী, একইসঙ্গে শক্তিশালী ইঞ্জিন ও রেডার থাকতে হবে বিমানগুলিতে।

সূত্রের খবর, ডিআরডিও এবং হ্যালের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত মার্ক ২ ফাইটার জেটগুলির সব মিলিয়ে ১৮ টি স্কোয়াড্রন চাইছে বায়ু সেনা। ইতিমধ্যেই হ্যালের কাছে ৮৩ টি জেট কেনার প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে। সেনার কাছে ফাইটার স্কোয়াড্রনের সংখ্যা কমে গিয়ে বর্তমানে ৩১-এ এসে ঠেকেছে। চিন ও পাকিস্তানের সঙ্গে টক্কর দিতে গেলে হাতে অন্তত ৪২টি ফাইটার স্কোয়াড্রন রাখা জরুরি। কিন্তু তাঁর তুলনায় কমই রয়েছে ভারতের। এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০১৬ সালে ফ্রান্সের থেকে ৩৬ টি রাফায়েল যুদ্ধবিমান কিনেছে ভারত যার জন্য খরচ হয় ৫৯ হাজার কোটি টাকা। সুইডেন বা আমেরিকায় নির্মিত যুদ্ধবিমানের চেয়ে ভারত চায় আরও বেশী উন্নত মানের করে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি তেজসই আসুক বায়ু সেনায়।

কিন্তু বর্তমান সিঙ্গেল ইঞ্জিনের তেজস এক ঘন্টার বেশী উড়তে পারে না। ৩ টন অস্ত্র বহনে সক্ষম হলেও তাঁর ওড়ার ক্ষমতা ৩৫০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার। এরসঙ্গে পাল্লা দিয়ে সিঙ্গল ইঞ্জিন ফাইটার জেট সুইডিশ গ্রিপেন কিন্তু তেজসের চেয়ে তিন গুণ কার্যকরী। তেজসের তুলনায় দ্বিগুন অস্ত্রবহন করতে সক্ষম এই বিমান। তবে আগামী দিনে তেজসের ইঞ্জিনের ক্ষমতা, ও পাল্লা আরও বাড়ানো হবে। কিন্তু যে পরিমান যুদ্ধ বিমান লাগবে তা বিদেশ থেকে কেনার অনুমতি এখনও কার্যকর করেনি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। তাই সেই ঘাটতি মেটানোর জন্য আপদকালীন পরিস্থিতিতে কেনা হচ্ছে দেশীয় তেজস।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here