bengali news on delhi

মহানগর ওয়েবডেক্স: দেশজুড়ে লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকেই জম্মু ও কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সন্ত্রাস দমন শাখার অভিযান তীব্র আকার নিয়েছে। এপ্রিল মাসে উপত্যকায় ভারতীয় বাহিনীর অভিযানে সাম্প্রতিক কালের মধ্যে পাকিস্তান মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদীরা সংখ্যায় সবথেকে বেশি খতম হয়েছে বলে জানা গিয়েছে সরকারি সূত্রে। চলতি বছরে খতম হওয়া ৬০ জন সন্ত্রাসবাদীর মধ্যে ২৮ জনই নিকেশ হয়েছে এপ্রিল মাসে। এর আগে ২০১৯ সালের মে মাসে জম্মু–কাশ্মীর পুলিশ, সেনাবাহিনী ও কেন্দ্রীয় রিজার্ভ বাহিনী (সিআরপিএফ)–এর যৌথ আক্রমণে ২৮ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছিল।

চলতি বছরের গোড়ায় অর্থাৎ জানুয়ারি মাসে ভারতীয় বাহিনীর হাতে ১৮ জন সন্ত্রাসবাদী প্রাণ হারায়। ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে প্রতি মাসে ৭ জন করে সন্ত্রাসবাদীকে খতম করে সেনা। মারা যাওয়া সন্ত্রাসবাদীদের মধ্যে ২০ জন হিজাবুল মুজাহিদিনের সদস্য, ৮ জন জৈশ–ই–মহম্মদ, ৬ জন লশকর–ই–তৈবা (এলইটি) ও ৩ জন ইসলামিক স্টেটের সদস্য। বাকি ২০ জনের সংগঠন গত যোগসূত্র জানা যায়নি। নিহতদের মধ্যে বেশকিছু শীর্ষ সন্ত্রাসবাদী কম্যান্ডার রয়েছে যেমন, জাহাঙ্গির ওয়ানি (হিজাবুল মুজাহিদিন), সাজ্জাদ নওয়াব দার (জৈশ–ই–মহম্মদ) এবং মুজাফফর আহমেদ ভাট (এলইটি)। অধিকাংশকেই পাওয়া গিয়েছে পুলওয়ামা ও সোপিয়াঁ–তে।

সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানে জড়িত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অধিকারিক জানান, পাকিস্তান মদতপুষ্ট সন্ত্রাসবাদীরা ভারতের লকডাউনের সুযোগ নিয়ে উপত্যকায় সমস্যা তৈরি করার চেষ্টা করেছিল। গোয়েন্দা সূত্রে খবর ছিল বাঙ্কারে লুকিয়ে থাকা সন্ত্রাসবাদীরা বেরিয়ে এসে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছে। সিআরপিএফ–এর স্পেশাল ডিরেক্টর জেনারেল (জম্মু–কাশ্মীর) জুলফিকার হাসান জানান, ”সন্ত্রাসবাদীরা লকডাউনের সুযোগ নেওযার চেষ্টা করেছিল কিন্তু বাহিনীর সমস্ত বিভাগের মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়ায় গোয়েন্দা সূত্র নির্ভর সন্ত্রাস দমন শাখা পূর্ণোদ্যমে অভিযান চালায়।”

গত বছর জম্মু কাশ্মীরে ১৫২ জন সন্ত্রাসবাদী নিহত হয় যার মধ্যে ১১ জনকে বাহিনী খতম করে এপ্রিল মাসে। ২০১৮ সালে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে মারা পড়ে ২১৫ জন সন্ত্রাসবাদী যার মধ্যে ওই বছরের এপ্রিল মাসে খতম হয় ২২ জন। ফলে ৩ বছরের নিরিখে চলতি বছরে এপ্রিলের সাফল্য সন্ত্রাস দমন শাখার কাছে উল্লেখযোগ্য বলেই মনে করা হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here