মহানগর ওয়েবডেস্ক: করোনা যুদ্ধে ভারতীয় রেল বিগত কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন ভাবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। আপোষহীন সেই লড়াইয়ের অঙ্গ হিসেবে এবার যুক্ত হল কোভিড–১৯ পরবর্তী সময়ে নিরাপদ রেল যাত্রার প্রস্তুতি। সংক্রমণের ভীতি সরিয়ে রেখে যাতে রেল যাত্রাকে নিরাপদ করা যায় তার জন্য কাপুরথালায় রেলের কোচ নির্মাণ কারখানায় তৈরি হয়েছে বিশেষ ধরনের রেলের কোচ।

রেল মন্ত্রকের পক্ষ থেকে টুইটারে একটি ভিডিও পোস্ট করে কোভিড–১৯ পরবর্তী রেলের কামরা সম্পর্কে একটা আন্দাজ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। জানা গিয়েছে এই নতুন ধরনের কামরায় কোনও কিছুর জন্য কোথাও হাত লাগাতে হবে না, হাতল ও ছিটকিনির ওপর থাকবে তামার আস্তরণ, বায়ু শোধন করা হবে প্লাজমা পদ্ধতিতে এবং সর্বত্র দেওয়া থাকবে টাইটেনিয়াম ডাইঅক্সাইডের প্রলেপ।

হাত না লাগিয়েই সব কাজ: বাথরুমে বা বাইরে যে বেসিন ও সাবানের পাত্র থাকে সে সবই পা দিয়েই নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এমনকি ওয়াশরুমের দরজাও খুলবে ও বন্ধ হবে পায়ের চাপে। ফ্লাশ করার জন্যও ভাল্ভে পা দিয়ে চাপ দিলেই চলবে। অর্থাৎ যাত্রীকে কোথাও হাত দিয়ে কিছু ধরতে হবে না।

তামার আস্তরণ: হাতল বা ছিটকিনিতে দেওয়া হয়েছে তামার আস্তরণ, কারণ তামা ভাইরাসকে কয়েকঘণ্টার মধ্যেই নষ্ট করে দেয়। তামার অ্যান্টি মাইক্রোবিয়াল চরিত্র রয়েছে। যখনই ভাইরাস তামার সংস্পর্শে আসে তখনই আয়ন বিক্রিয়ার ফলে ভাইরাসের ডিএনএ এবং আরএনএ ধ্বংস হয়ে যায়।

প্লাজমা শোধন ব্যবস্থা: এয়ার কন্ডিশনের হাওয়া বেরনোর মুখগুলিতে প্লাজমা শোধন ব্যবস্থা বসানো থাকবে যাতে কামরায় ছড়িয়ে পড়ার আগেই বাতাস শোধন হয়ে যায় এবং এই আয়ন যুক্ত বাতাস কোভিড–১৯ ভাইরাস সহ অন্যান্য ভাসমান কণা থেকে যাত্রীদের সুরক্ষিত রাখবে।

টাইটেনিয়াম ডাইঅক্সাইডের প্রলেপ: কামরার মধ্যে সর্বত্র টাইটেনিয়াম ডাইঅক্সাইডের প্রলেপ দেওয়া থাকবে। এই প্রলেপের ফলে সমস্ত রকম ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক মুক্ত থাকবে কামরা। ১২ মাস অন্তর এই প্রলেপ আবার লাগাতে হবে কারণ টাইটেনিয়াম ডাইঅক্সাইডের মেয়াদ থাকে এক বছর।

এই সব ব্যবস্থাই অবশ্য শীতাতপ কামরার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সাধারণ কামরায় কোভিড পরবর্তী সময় যাত্রা সুরক্ষিত করার জন্য রেল কর্তৃপক্ষ কোনও পরিকল্পনা নিয়েছেন কিনা এখনও পর্যন্ত সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here