National News

মহানগর ওয়েবডেস্ক: ইতিহাস ছুঁতে চেয়েও ব্যর্থ হয় ভারত। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণের আগেই ভেঙে পড়ে ল্যান্ডার বিক্রম। এরপর বিক্রমের নাগাল পাওয়া গেলেও আর যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি৷ শত চেষ্টার পরেও বিক্রমের খোঁজ পেতে ব্যর্থ হয় ইসরো। কিন্তু নাসার তরফে জানানো হয়, ইসরোর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে চন্দ্রযান-২ এর ল্যান্ডারের হার্ড ল্যান্ডিং হয়েছিল৷ অবশেষে সেই বিক্রমের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া গিয়েছে। নাসার ছবির সাহায্য নিয়ে চাঁদের দক্ষিণ মেরু থেকে সেই ধ্বংসাবশেষ খুঁজে বের করেছেন চেন্নাইয়ের এক টেকি, সন্মুগ সুব্রহ্মণ্যন।

জানা গিয়েছে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে বিক্রম নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পর তার আগের অবস্থানের কিছু ছবি ওঠে নাসার এলআরও ক্যামেরাতে। ওই ছবিগুলি নিয়েই বিগত কিছু সপ্তাহ ধরে পরীক্ষা করতে থাকেন সন্মুগ। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাফল্য পেয়েই তিনি তখন নাসাকে এই বিষয় চিঠি লেখেন। তাঁর দাবি খতিয়ে দেখার পর ভারতীয় টেকির কাজের প্রশংসা করে নাসা তাঁকে ধন্যবাদ জানায়। পরবর্তী সময়ে নাসার তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, চেন্নাইয়ের ইঞ্জিনিয়ার সন্মুগ সুব্রহ্মণ্যন প্রথমে ধ্বংসাবশেষ চিহ্নিত করেন। বিক্রম যেখানে ক্র্যাশ ল্যান্ড করেছিল তার উত্তর পশ্চিম দিকে একটা উজ্জ্বল পিকসেল প্রথমে চিহ্নিত করা হয়, এর পরই সন্মুগ লুনার রেকনিসেন্স অরবিটার প্রজেক্টের দায়িত্বে থাকা গবেষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর কথা শোনার পরই পরীক্ষা করে দেখা যায় ওটা ল্যান্ডারই ধ্বংসাবশেষ।

প্রসঙ্গত, চেন্নাইয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিনাক্স ইন্ডিয়া টেকনোলজি সেন্টারে কাজ করেন মেক্যানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার তথা কম্পিউটার প্রোগ্রামার সন্মুগ সুব্রহ্মণ্যন। মাদুরাইয়ের বাসিন্দা সন্মুগ আগে প্রোগ্রাম অ্যানালিস্ট হিসেবে কাজ করতেন কগনিজেন্টে। এই মুহূর্তে ভারতের সবচেয়ে বড় আবিস্কারটা তিনিই করে ফেলেছেন। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই তাঁকে কুর্নিশ জানাচ্ছে গোটা দেশ।

উল্লেখ্য, নাসার যে ছবিটি প্রকাশ্যে এসেছে তাতে বিক্রমের জায়গাটিকে ‘এস’ বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। নাসা-র প্রকাশ করা ছবিতে নীল ও সবুজ রঙ করে বিক্রমের ধ্বংসাবশেষ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নীল রঙের ব্যবহার করে বিক্রম ও সবুজ রঙের ব্যবহার করে তার বাকি অংশের টুকরোকে বোঝানো হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here