kolkata bengali news

ডেস্ক: কদিন আগেই গোটা ভারতবাসীর উদ্বেগ সৃষ্টি করে একটি টুইট করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তারপরে জাতির উদ্দেশ্যে এক ভাষণে জানিয়েছিলেন ভারতের নয়া নজিরের কথা। বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে অ্যান্টি স্যাটেলাইট মিসাইলের সফল উৎক্ষেপণ করে ভারত। যদিও এই ব্যাপারটিকে সমাজের একাংশ যখন নির্বাচনী গিমিক বলে আখ্যা দিয়েছিল, তখন এক অংশ প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতের এক অনবদ্য সাফল্য রূপেই দেখছিল। কিন্তু ভারতের এই পদক্ষেপে খুশি হয়নি অনেক দেশই। এবার ভারতের এই ‘মিশন শক্তি’ নিয়ে মুখ খুলল নাসাও। ভারতের এই ASAT উৎক্ষেপণকে ‘ভয়াবহ পদক্ষেপ’ বলে আখ্যায়িত করল নাসা কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবার একটি বিবৃতিতে নাসার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এর ফলে ইন্টারন্যাশানাল স্পেস স্টেশনে মহাকাশচারীদের বিপদের সম্ভাবনা ৪৪ শতাংশ বেড়ে যায়।

মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে নাসার আধিকারিক জিম ব্রাইডেনস্টাইন বলেন, ‘ভারতের এই মিশনের ফলে মহাকাশে বিপুল পরিমাণ বর্জ্যের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা এখনও পর্যন্ত ধ্বংস হওয়া উপগ্রহের ৪০০টি খণ্ড খুঁজে পেয়েছি। যদিও আমাদের নিরীক্ষা এখনও শেষ হয়নি। এর মধ্যে ৬০টি এমন টুকরো আছে যার দৈর্ঘ্য ১০ সেন্টিমিটার বা তার বেশি। এর মধ্যে ২৪টি থেকে ইন্টারন্যাশানাল স্পেস স্টেশনের ক্ষতি হওয়া সম্ভব।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রতি ঘণ্টায় এই মিশনের ফলে তৈরি হওয়া বর্জ্য সম্পর্কে নতুন কোনও তথ্য জানতে পারছি। এই টুকরোগুলির আঘাতের ফলে ইন্টারন্যাশানাল স্পেস স্টেশন ও আমাদের মহাকাশচারীদের বিপদ হতে পারে।

 

পাশাপাশি, ভারতের এই মিশন শক্তি নিয়েও সমালোচনার সুর শোনা যায় ব্রাইডেনস্টাইনের গলায়। ‘এটা খুব ভয়াবহ একটি পদক্ষেপ। একটি দেশ যখন এই ধরণের কাজ করে, তখন অন্যান্য দেশগুলিও একই পথের পথিক হতে চায়’, বলেন তিনি। তবে ভারতের এই মিশন নিয়ে আশার বানীও শোনান নাসা কর্তা। জিন বলেন, ‘এই মিশনের একটিই ভালো দিক যে, ঐ বর্জ্যগুলি পৃথিবীর অনেক কাছে রয়েছে। ফলে ওইগুলি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। চিন ২০০৭ সালে যে ASAT উৎক্ষেপণ করেছিল তার থেকে সৃষ্ট বর্জ্য এখনও মহাকাশে রয়ে গিয়েছে।’

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here