মহানগর ওয়েবডেস্ক: বস্তুত আর কোনও উপায় না পেয়েই মানবিক কারণে কয়েক দশক পুরনো পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়েছিল তাঁর শরীরে। পরিস্থিতি এমনিতেই সংকটজনক ছিল। ফলে হারানোর কিছুই ছিল না। কিন্তু আদ্যিকালের সেই প্লাজমা থেরাপিতেই কাজ হল ম্যাজিকের মতো। করোনা থেকে সেরে উঠলেন দিল্লির ম্যাক্স হাসপাতালে ভর্তি ৪৯ বছরের আক্রান্ত ব্যক্তি। যিনি গত এক সপ্তাহ আগেও ভেন্টিলেটরে ছিলেন, তিনিই রবিবারের মধ্যে মারাত্মক অগ্রগতি দেখিয়েছেন, এমনকী হাসপাতাল থেকে ছুটিও পেয়ে গিয়েছেন।

গত ৪ এপ্রিল কোভিড ১৯ টেস্টে পজিটিভ রেজাল্ট এসেছিল দিল্লির ওই ব্যক্তির। কমবেশি জ্বর ও শ্বাসকষ্টের উপসর্গ সহ ওই দিনই তাঁকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি লক্ষ্য করা যায়। শেষ পর্যন্ত উপায় না দেখে ওই রোগীকে অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া শুরু করেন চিকিৎসকরা। কিন্তু তাতেও খুব একটা কাজ হয় না। ৮ এপ্রিল ভেন্টিলেটরে দিতে হয় ওই রোগীকে। তা সত্ত্বেও কোনও ধরনের উন্নতি দেখা যায় না। শেষ পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানান, মানবিক কারণে যেন তাঁর শরীরে প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগ করে দেখা হয়।

এই প্রস্তাবে রাজি হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু প্লাজমা দাতা খুঁজে পাওয়া যাবে কীভাবে? সেই কাজও করে পরিবারই। তারা একজন প্লাজমা দাতার ব্যবস্থা করে যে তিন সপ্তাহ আগেই করোনা থেকে সেরে উঠেছে। নতুন করে ওই দাতার করোনা টেস্ট করা হয়। রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পরই তাঁর শরীরের প্লাজমা নিয়ে রোগীর শরীরে প্রবেশ করানো হয় গত ১৪ এপ্রিল। নতুন প্লাজমা পাওয়ার চতুর্থ দিনের মধ্যেই ওই রোগী ক্রমশ সুস্থ হতে শুরু করেন। ১৮ এপ্রিল তাঁকে ভেন্টিলেশন থেকে বের করে নেওয়া হয়। গত সোমবার নতুন করে যখন তাঁর করোনা পরীক্ষা করা হয় তখন রিপোর্ট আসে নেগেটিভ। একবার নয়, দু-দু’বার। শেষ পর্যন্ত রবিবার তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় হাসপাতাল থেকে। সূত্রের খবর, এবার নিয়ম মেনে টানা ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে ওই রোগীকে। তারপরই স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু হবে তাঁর।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here