national news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: বাড়তে থাকা করোনা পরিস্থিতি ভীতির সঞ্চার করেছে গোটা বিশ্বে। করোনার ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে ভ্যাকসিনের অপেক্ষায় গোটা পৃথিবী‌। যার খুঁজে উঠে পড়ে লেগেছে একাধিক দেশ। তালিকায় রয়েছে ভারতও। এহেন পরিস্থিতিতে মাঝেই শনিবার রাষ্ট্রসঙ্ঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিশ্বকে আশ্বাস দিলেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জানিয়ে দিলেন ভ্যাকসিন তৈরিতে অনেকখানি এগিয়ে গিয়েছে ভারত। গোটা বিশ্বে ভ্যাকসিন সরবরাহ করার ক্ষমতাও রয়েছে ভারতের। পাশাপাশি রাষ্ট্রপুঞ্জে করোনা রুখতে কি পদক্ষেপ করছে সে নিয়েও এদিন প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিন বিশ্বব্যাপী করোনা পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে চ্যালেঞ্জ। ফলে আমাদেরও বদলে যেতে হবে। সময় এসেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের আত্মসমীক্ষার। গোটা বিশ্ব এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে সাত-আট মাস ধরে লড়াই করছে। এত দিনে রাষ্ট্রসংঘ কি পদক্ষেপ নিয়েছে?’ পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতিতে বিশ্বের প্রতি ভারতের দায়িত্বের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৫০ টিরও বেশি দেশকে করোনা পরিস্থিতিতে জরুরি ওষুধ পাঠিয়েছিলাম আমরা।’ নরেন্দ্র মোদীর কথায়, ‘বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে বিশ্বকে আমরা আশ্বাস দিতে চাই ভারতের টিকা উৎপাদন ও বন্টনের ক্ষমতা গোটা পৃথিবীকে এই মারণ ভাইরাসের কবল থেকে বের করে আনবে। ভারতে এখন তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে। ভ্যাকসিন তৈরি হয়ে গেলে গোটা বিশ্বকে তা দিতে কোনও অসুবিধা হবে না ভারতের।’

এছাড়াও এদিন আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ‘যখন রাষ্ট্রসংঘ তৈরি হয়েছিল তখন পরিস্থিতি অন্যরকম ছিল। তবে এখন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। একবিংশ শতকের মানুষের চাহিদা, প্রয়োজনীয়তা সবটাই সেই সময়ের তুলনায় ভিন্ন। ফলস্বরূপ নয় প্রয়োজনীয়তাকে প্রাধান্য দিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সংস্কার অত্যাবশ্যক একটি বিষয়।’ পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী এটাও জানান, ‘প্রাসঙ্গিক থাকার জন্য বর্তমান বিশ্বে পরিবর্তন হওয়া আবশিক। প্রতিক্রিয়ায় সংস্কার, ব্যবস্থাপনায় সংস্কার এবং রাষ্ট্রসংঘের সংস্কারও এখন সময়ের চাহিদা। এটা সত্যি কথা যে ভারতের ১৩০ কোটি মানুষের মনে রাষ্ট্রসংঘের প্রতি যে বিশ্বাস এবং শ্রদ্ধা আছে, তা অতুলনীয়।’ এরপরই প্রধানমন্ত্রী জোর সওয়াল করে বলেন, ‘যে দেশ বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ। যেখানে গোটা পৃথিবীর ১৮ শতাংশ মানুষ বসবাস করেন, কতদিন আর রাষ্ট্রসঙ্ঘের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী দেশ হিসেবে বাইরে রাখা হবে ভারতকে?’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here