মহানগর ওয়েবডেস্ক: সোমবার আচমকাই জেগে উঠল ইন্দোনেশিয়ার মাউন্ট সিনাবাং আগ্নেয়গিরি। যার ফলে চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছে কালো ধোঁয়া এবং ছাই। আগ্নেয়গিরিটি এতটাই বিপজ্জনকভাবে জেগে উঠেছে যে এর ধোঁয়া ও ছাই আকাশে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার উচ্চতায় ছড়িয়েছে। স্থানীয় এলাকাগুলি অন্ধকার ছাইয়ের কালো ও পুরু আস্তরণে ঢেকে গিয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে অবস্থিত এই আগ্নেয়গিরি ২০১০ সাল থেকেই গর্জন করে চলেছে। ২০১৬ সালে এক বার অগ্নুৎপাত হয়েছিল। তারপর থেকে শান্তই ছিল এই আগ্নেয়গিরি। তবে স্থানীয়দের কথায়, বিগত কয়েকদিন যাবত ওই আগ্নেয়গিরিতে ছোট ছোট বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া গিয়েছিল। শেষে সোমবার তা বিকট আওয়াজ করে ফেটে পড়ে। যদিও আশেপাশের গ্রামের সকলেই সুরক্ষিত রয়েছেন। তবে সরকারের পক্ষ থেকে সাবধান করা হয়েছে যে আগামী সময় এই আগ্নেয়গিরি থেকে লাভাও বের হতে পারে।

আগ্নেয়গিরিটি জীবন্ত হওয়ার কারণে তার আশেপাশে যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে সরকারের। ২০১০ সালের পরই পার্শ্ববর্তী যে গ্রামগুলি ছিল তাও ফাঁকা করে দেওয়া হয়েছে। তা সত্ত্বেও উদ্বেগ রয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কারণে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আবেদন জানানো হলেও উৎসাহীরা তা মানছেন না। ফলে ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকছে।

প্রায় ৪০০ বছর ঘরে ঘুমিয়ে থাকার পর ২০১০ সালে প্রথমবার গর্জন করেছিল সিনাবাংয়ের আগ্নেয়গিরি। কয়েক বছর শান্ত থেকে ২০১৩ সালে একবার বিস্ফোরণ হয়। তারপর আবার শান্ত হয়ে যায়। ২০১৪ সালের এক বিস্ফোরণে ১৬ জনের মৃত্যু হয়। এরপর ২০১৬ সালে ফের আরেকবার আগ্নেয়গিরি জেগে ওঠায় প্রাণ হারাতে হয় আরও সাতজনকে। কেবল ইন্দোনেশিয়াতেই বর্তমানে ১৩০টির বেশি জীবন্ত আগ্নেয়গিরি রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here