bengali news caa

মহানগর ওয়েবডেস্ক: সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদের আগুন উত্তাপ ছড়িয়েছে এরাজ্যেও। ক্রমশই জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি। শুক্রবারের পর শনিবারও সকাল থেকে বিভিন্ন জায়গায়, ভাঙচুর, অবরোধ, অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গিয়েছে। পরিস্থিতি ক্রমশ চলে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এবার সাংবাদিক বৈঠক ডেকে কেন্দ্রের এই আইনের বিরুদ্ধে মুখ খুললেন শহরের বুদ্ধিজীবীরা। এদিন কলকাতা প্রেস ক্লাবে উপস্থিত হয়ে বিদ্বজনেরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ডাক দেন। একই সঙ্গে আন্দোলনের নামে যে হিংসা ও সন্ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে তারও নিন্দা করেন।

এদিন বিদ্বজনদের এই বৈঠকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় শুভাপ্রসন্ন, জয় গোস্বামী, কবির সুমন, সুবোধ সরকার, প্রতুল মুখোপাধ্যায়, অভীক মজুমদারদের। প্রত্যেকেই সম্মিলিতভাবে কেন্দ্রের এই আইনকে ‘বৈষম্যমূলক’ বলে আখ্যা দেন। বৈঠকে উপস্থিত হয়ে কেন্দ্র নেতৃত্বাধীন নরেন্দ্র মোদী সরকারকে রীতিমতো তুলোধনা করেন জয় গোস্বামী। বলেন, ‘২০০২ সালে গুজরাটে যাদের হাতে গণহত্যা হয়েছিল তারাই এখন দিল্লিতে ফ্যাসিবাদী শাসন চালাচ্ছে। আশা করি বাংলার সব ধর্মের মানুষ এক হয়ে বিদ্বেষের এই বীজ প্রতিহত করতে পারবে।’ শুভাপ্রসন্নর কথায়, কেন্দ্রের শাসকদলের একের পর এক ভ্রান্ত নীতির ফলে বিধ্বস্ত, হতাশাগ্রস্ত। তার প্রতিবাদ হওয়া প্রয়োজন।

সাংবাদিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সংগীতশিল্পী কবির সুমনও। মনে করিয়ে দেই, এনআরসি-র বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই সোচ্চার ছিলেন তিনি। এদিন তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘মরে গেলেও একটিও ডকুমেন্ট জমা দেবেন না।’ সাহিত্যিক আবুল বাসার আবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপরে আস্থা রাখার জন্য রাজ্যবাসীর কাছে আবেদন জানান। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই কেন্দ্রীয় সরকারের এই জনবিরোধী প্রকল্পগুলির বিরুদ্ধে বাংলা লড়তে পারবে। প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের কথায়, ‘এই আন্দোলনে মমতাকে চাই। তেমনই গোটা ভারতের মানুষকে একসঙ্গে ক্ষোভ দেখাতে হবে। না হলে এই বিপদকে দূর করা যাবে না।’ অন্যদিকে এদিন বৈঠকে উপস্থিত না থাকতে পারলেও বার্তা পাঠিয়ে কেন্দ্রের এই নীতির সমালোচনা করেন সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here