ডেস্ক: গণতন্ত্র মানে হিংসা,রক্তের উল্লাস নয়৷
পঞ্চায়েত ভোটে মনোনয়নকে ঘিরে হিংসা,রক্তারক্তিতে রীতিমতো ক্ষুব্ধ তৃণমূলপন্থী বুদ্ধিজীবীরা৷
চৌত্রিশ বছরের বাম জমানার অবসানে এঁরাই পরিবর্তনের ডাকে সাড়া দিয়ে পথে নেমেছিলেন৷ পরিবর্তনের পর ক্ষমতায় এসেছে তাঁদেরই দল তৃণমূল৷ এবার সেই শাসকদলের বিরুদ্ধেই পঞ্চায়েত ভোটে মনোনয়ন ঘিরে হিংসা-হানাহানির অভিযোগ তুললেন তৃণমূলপন্থী বুদ্ধিজীবীরা৷

বুধবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে শাসকদলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন তাঁরা৷ বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব বিভাস চক্রবর্তী গত কয়েকদিন ধরে পঞ্চায়েত ভোটে মনোনয়নকে ঘিরে যে সন্ত্রাস,রক্তারক্তি ঘটেছে, তাকে নজিরবিহীন বলে বর্ণনা করেছেন৷ জানালেন, এমন চললে তা গণতন্ত্রের বিপর্যয় বলেই চিহ্নিত হবে৷ দুর্বৃত্তদের হাতেই রাশ চলে যাবে৷ কড়া সমালোচনা করেছেন শিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায়ও ৷ প্রতিবাদে সরব হন সুজাত ভদ্র, পল্লব কীর্তনিয়া, মীরাতুন নাহাররাও ৷ সবার মুখেই শাসক তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, হিংসার অভিযোগ৷

তবে তৃণমূলপন্থী বুদ্ধিজীবীদের এহেন সমালোচনার জবাব দিয়েছেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷ তিনি জানিয়েছেন, বুদ্ধিজীবীদের কাছে সঠিক তথ্য নেই৷ তাঁর পাল্টা দাবি, বিরোধীরা যে হিংসা,মনোনয়নে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন, তা অসত্য৷ বিরোধীরা চল্লিশ হাজারের মতো প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছেন৷ বাম আমলে তাঁরা এত বেশি সংখ্যায় মনোনয়ন দিতে পারেননি৷ বুদ্ধিজীবীদের সম্পর্কে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে তিনি বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে কথা বলবেন৷ একইসঙ্গে তাঁর প্রশ্ন, তাঁরা তৃণমূলের অস্ত্র মিছিলের খবর পাচ্ছেন, আর সিপিএম -বিজেপির অস্ত্র মিছিলের খোঁজ তাঁদের কাছে নেই কেন? তাঁর দাবি, সঠিক তথ্য পেলে বুদ্ধিজীবীরা এই অভিযোগ করতে পারতেন না৷ পার্থবাবু আরও জানান, তাঁদের সঙ্গে বুদ্ধিজীবীদের সুসম্পর্ক রয়েছে৷

এদিকে দিন কয়েক আগেই রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ বুদ্ধিজীবীদের কড়া সমালোচনা করেছিলেন৷ এদিন প্রেস ক্লাবে পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়ন ঘিরে সন্ত্রাস,হিংসার প্রতিবাদে সেই বুদ্ধিজীবীদের বিক্ষোভের প্রসঙ্গে বলেন, একদিন তাঁরা তৃণমূলের হাত ধরেছিলেন৷ আজ বুঝতে পেরেছেন কী ভুল করেছেন৷ এখন তাঁদের রাজ্যবাসীদের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here