ডেস্ক: গত কয়েকমাস ধরে দাম্পত্য কলহে জেরবার মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর স্ত্রী রত্নাদেবী। পরিস্থিতির জেরে নানান মুখরোচক গল্প থেকে শুরু করে নিজের রাজনৈতিক জীবনেও জেরবার কলকাতার মেয়র। মেয়র বান্ধবী বৈশাখীকেই এই টানাপোড়েনের জন্য দায়ী করেছেন রত্না। বিগত কয়েকদিনে কথা তো দূরের কথা একে অপরের মুখটাও দেখেননি শোভন-রত্না। ডিভোর্সের মামলা চলছে আদালতে। এরই মাঝে এই দুইজনের দাম্পত্য কলহ নতুন মাত্রা নিল একটি ফোন কলকে ঘিরে।

সম্প্রতি, সাংবাদিকদের সামনে মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় দাবি করেছেন শনিবার সন্ধে ৬ টা থেকে সাড়ে ৬ টার মধ্যে তাঁর নম্বরে একটি ফোনকল আসে। শোভনের দাবি ওই কলটি করেছিলেন রত্না চট্টোপাধ্যায়। শোভনবাবুর কথায়, ‘একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোনটা এসেছিল। সেভ না করা ওই নম্বর ট্রুকলারে চেক করতে দেখা যায় ওই নম্বর থেকে ফোনটি রত্না চট্টোপাধ্যায় করেছেন। যদিও আমি সঙ্গে সঙ্গেই নম্বরটিকে ব্লক করে দেই।’ যদিও এরপর সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রত্না দেবী জানিয়েছেন, ‘কেন আমি ওকে ফোন করতে যাব কোনও প্রশ্নই ওঠে না। আমার মেয়ের সঙ্গে ভিসা নিয়ে কিছু সমস্যা হয়েছিল যার জন অনেকদিন আগে আমার মেয়ে তাঁর মোবাইল থেকে ফোন করেছিল ওকে। সেই সময় শেষ কথা হয়। তবে সে অনেকদিন আগে।’ রত্নার কথায়, ‘এর মাঝে আর কোনও ফোন তিনি করেননি, দরকারও পড়েনি।’ একইসঙ্গে এটাও জানিয়ে দেন তিনি, ‘শোভনের সঙ্গে যা কথা হওয়ার তা আদালতে হবে এর মাঝে আর কোনও কথা নয়।’

এদিকে, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে তুলে ধরে গত মঙ্গলবারই একটি ফেসবুক পোস্ট করেন মেয়র পুত্র ঋষি চট্টোপাধ্যায়। যেখানে তিনি লিখেছেন, ‘শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামাজিক সম্মান নিয়ে খেলার অধিকার নেই রত্না চট্টোপাধ্যায়ের। এক বছর আগেও যে বৈশাখীকে শোভনবাবু চিনতেন না। ২২ বছরের বিবাহিত স্ত্রীর সামাজিক সম্মান নিয়ে খেলার অধিকার অবশ্য শোভন চট্টোপাধ্যায় ও বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের আছে! এটা কি আমাদের সমাজের রীতি’?

এদিকে, এই দুইজনের দাম্পত্য কলহের মধ্যে হস্তক্ষেপ করেছেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সম্প্রতি, মন্ত্রী তথা তৃণমূলের এক বর্ষিয়ান নেতার মারফৎ রত্নাকে মিউচুয়াল ডিভোর্সের প্রস্তাব পাঠান মমতা। যদিও তা মেনে নেননি রত্না দেবী। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মিউচুয়াল ডিভোর্সে বসার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। এত সহজে তিনি শোভনকে ছেড়ে দেবেন না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here