ডেস্ক: ফের বড়সড় সাফল্য পেল ভারতীয় ইন্টালিজেন্স! রাজধানীর বুকে বানচাল আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ছক৷ সেইসঙ্গে দিল্লির বুকে প্রাণে বাঁচলেন কয়েকশো মানুষ৷ আত্মঘাতী বিস্ফোরণের উদ্দেশ্যে দিল্লিতে এক ভয়ঙ্কর আইএস জঙ্গিকে গ্রেফতার করেছেন গোয়েন্দারা৷ সর্বভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আত্মঘাতী বিস্ফোরণের জন্য দিল্লি বিমানবন্দর, আনসাল প্লাজা মল, বসন্ত কুঞ্জ এলাকার একটি শপিং মল-সহ একাধিক জায়গায় এই জঙ্গি রেকি করেছিল৷ গোয়েন্দা সূত্রে খবর, ওই জঙ্গি আফগানিস্তানের নাগরিক। নাশকতার ছক বানচাল করতে ভারতীয় গোয়েন্দাদের সাহায্য প্রযুক্তি ও তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। এর আগে ২০০৭ সালে এই জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল৷

গ্রেফতারের পরই ওই জঙ্গিকে আফগানিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানকার একটি মার্কিন সেনা ছাউনিতে আটকে রাখা হয়েছে তাকে। চলছে জেরার পর জেরা৷ একাধিক ফোন ট্যাপ করে ধৃত আইএস জঙ্গির দিল্লি আসার খবর জানতে পারে গোয়েন্দারা। বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৮০জন গোয়েন্দাকে নিয়ে একটি অপারেশনাল টিম তৈরি করা হয়। প্রথমেই তাকে ধরা হয়নি৷ দিল্লি বিমানবন্দর থেকেই তার উপর চলতে থাকে কড়া নজরদারি৷ দিল্লিতে এসে প্রথমে সে একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হয়৷

এরপর বাকিটা একেবারে সিনেমার মতো৷ হাতের নাগালে পেয়েও গোয়েন্দারা তাকে সরাসরি গ্রেফতারের পথে হাঁটেনি৷ আরও বেশি বেশি তথ্য হাতে পাওয়ার জন্য পুলিশেরই এক ব্যক্তিকে বিস্ফোরক যোগানকারী হিসেবে ওই যুবকের সঙ্গে পরিচয় করানোর ফাঁদ পাতেন তাঁরা। ক্লিক করে যায় তাঁদের তৈরি ব্লু-প্রিন্ট৷ বিস্ফোরক হস্তান্তর হয়ে যায়। কিন্তু, ইচ্ছাকৃতভাবে বিস্ফোরণ ঘটনোর জন্য ট্রিগার তাতে দেওয়া ছিল না। তবে আর কোনও ঝঁকি নিতে চায়নি গোয়েন্দারা৷ অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ওই জঙ্গিকে গ্রেফতার করেন গোয়েন্দারা। ভারত-মার্কিন গোয়েন্দারা যৌথভাবে জেরা শুরু করে তাকে৷ তার থেকে আফগানিস্তানে আইএস ঘাঁটি ও তাদের নাশকতামূলক কার্যকলাপ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে এসেছে গোয়েন্দাদের৷ কেন্দ্রীয় সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে অবশ্য বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হয়নি৷

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here