kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে নিগ্রহের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পাশেই দাঁড়ালো রাজ্য সরকার। রাজ্যপাল আইনশৃঙ্খলা অবনতির নিয়ে অভিযোগ করলেও তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের না শুনেই জোর করে বাবুলকে উদ্ধার করতে বিশ্ববিদ্যালয় হাজির হয়েছিলেন জগদীপ ধনকড়।

সূত্রের খবর, রাজ্যপাল চেয়েছিলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনুক। কিন্তু রাজ্য সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে সরাসরি ‘না’ করে দেওয়া হয়। বলা হয়, কোনও ভাবেই পুলিশ ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারবে না। এরপর এই ঘটনায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন রাজ্যপাল। রাজভবন থেকে রওনা দেন যাদবপুরের উদ্দেশে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে ফোন করেন। মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালকে বলেন, এই সময় ক্যাম্পাসে যাওয়ার দরকার নেই। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় বিন্দুমাত্র পাত্তা না দিয়েই বাবুলকে সাহায্য করতে রাজ্যপাল ক্যাম্পাসে পৌঁছে যান। শেষ পর্যন্ত রাজ্যপালের গাড়ি করেই ক্যাম্পাস থেকে বের হতে সক্ষম হন বাবুল। ফলে এ দিনের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী-রাজ্যপাল সংঘাত নতুন আকার নিয়েছে।

তৃণমূলের তরফ থেকে মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিবৃতি দিয়ে সরাসরি এই ঘটনার জন্য রাজ্যপাল, বিজেপি এবং এবিভিপি কে দায়ী করেছেন। বস্তুত, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের পাশেই দাঁড়িয়েছে তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার। জানানো হয়েছে, রাজ্যকে না জানিয়ে যেভাবে বিজেপি নেতাকে সাহায্য করতে রাজ্যপাল বিশ্ববিদ্যালয় পৌঁছে গিয়েছিলেন, এটা দুর্ভাগ্যজনক। সেই সময় পুলিশ বাইরে ছিল, কিন্তু উপাচার্য চাননি পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকুক। কিন্তু যেভাবে রাজ্যপাল রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা না করেই বিশ্ববিদ্যালয় পৌঁছে যান, সেটা দুর্ভাগ্যের।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সমালোচনা করেছিল রাজ্যপালের অফিস। সেই সমালোচনার জবাব দিয়েছে তৃণমূল। তাদের বক্তব্য, এখানে তৃণমূল বা প্রশাসনের কারোর কোনও ভূমিকা ছিল না। তাই আইন-শৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার মতো কোনও অবস্থা তৈরি হয়নি। পাশাপাশি এই হিংসার চূড়ান্ত নিন্দা করা হয়েছে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে।

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার এবিভিপির অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় গিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। সেখানে যাদবপুরে ছাত্রছাত্রীরা তার ওপর চড়াও হয় এবং তাঁকে হেনস্থা করে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, দীর্ঘক্ষণ বাবুলকে আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখায় তারা। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় রাজ্যপালের সাহায্যে বাবুল কোনও রকমে বেরিয়ে এলে। এবিভিপি ক্যাম্পাসের ভেতর তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ, যা নিয়ে এখনও সরগরম রাজ্য রাজনীতি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here