নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘কে কোন দলের বড় কথা নয়, মানুষ মারা গিয়েছে’, শীতল কুচি প্রসঙ্গে মমতার সুরেই সুর মেলালেন বিমান বসু। সোমবার সাংবাদিক সম্মেলনে সংযুক্ত মোর্চার পক্ষ থেকে বিমান বসু বলেন ঘটনার দিন ওই এলাকায় একটা লোকের হাতেও কি সেল ফোন ছিল না? ওই ঘটনা প্রত্যেকটি মানুষের নজর এড়াল কিভাবে? এছাড়াও তিনি অভিযোগ করেন ও দিনের ঘটনায় নির্বাচন কমিশন সঠিক তদন্ত না করেই রিপোর্ট দিয়েছে।

শীতল কুচির ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের দেওয়া রিপোর্ট যে তারা মানছেন না এদিন তাও স্পষ্ট করে দেন বিমান বাবু ও তার সহযোগীরা। গত ১০ই এপ্রিল রাজ্যে চতুর্থ দফার নির্বাচনে রক্তাক্ত হয় কোচবিহারের শীতল কুঁচি। কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে বেঘোরে প্রাণ যায় চার জন গ্রামবাসীর। আর এই ঘটনা নিয়েই সরগ্রম রাজ্য রাজনীতি। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে ইতিমধ্যেই একে প্ন্যকে দুষছেন প্রত্যেক রাজনৈতিক দলই। গোটা ঘটনার দায় চাপিয়ে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগ দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি অমিত শাহকে মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসাবে দোষারোপও করেছেন তৃণমূল নেত্রী।

সোমবার আরও এক ধাপ এগিয়ে কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ কে গুরুত্ব না দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুরে সুর মিলিয়ে এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন বিমান বসু। তিনি বলেন “যারা অস্ত্র কেড়ে নিতে যাচ্ছিল তারা যে পার্টির হোক তারা মানুষ। নিয়ম আছে হাঁটুর নিচে গুলি করার। কিন্তু যারা মারা গিয়েছেন তাদের কাউকে হাঁটুর নিচে গুলি করা হয়নি”।

এছাড়াও তিনি বলেন ‘যারা অস্ত্র কেড়ে নিতে যাচ্ছিল তাদের বিরুদ্ধে প্রমান কথায়, তার নথি কোথায়? তাদের বিরুদ্ধে এখনও পর্যন্ত যথাযথ প্রমান দিতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। তার আরও দাবি, এখন মোবাইলের যুগ, অস্ত্র কেড়ে নেবার সময়ে কেউ ভিডিও করেনি? নির্বাচন কমিশনের এই রায় আমরা মানছি না।পাশাপাশি এদিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের নাম না করে তিনি বলেন “যারা বলছে আরও শিতলকুচি হবে, তারা নিজেরা বাঁচবে তো?

প্রসঙ্গত, মাত্র একদিন আগেই শীতল কুচির ঘটনায় নির্বাচন কমিশনকে সমর্থন করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলিপ ঘোষ বলেন, এখনও যে কয়েক দফা নির্বাচন বাকি আছে তাতে কোনও প্রকার হিংসার ঘটনা ঘটলে রাজ্যের জায়গায় জায়গায় শীতলকুচির মতো ঘটনা ঘটবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here