kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: ভারতীয় রাজনীতিতে প্রশান্ত কিশোরের নাম এখন কারোর অজানা নয়। ২০১১ সালে নরেন্দ্র মোদী গুজরাটে তারপর ২০১৪ প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নরেন্দ্র মোদী, তারপর ২০১৯ অন্ধ্রপ্রদেশে জগনমোহন রেড্ডি এদিকে বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেস। নানা রাজনৈতিক দলের বৈতরনি পার করতে ডাক পড়ে প্রশান্ত কিশোরের। কিন্তু কোনও দলই তাঁর পারিশ্রমিক নিয়ে কোনও কথাই প্রকাশ্যে বলেন না। তবে অন্ধ্রপ্রদেশের বর্তমান শাসক দল জগনমোহন রেড্ডির ওয়াইএসআর কংগ্রেস তাঁর নির্বাচনী খরচ স্বরূপ বৈতরনি পার করার জন্য প্রশান্ত কিশোর ও তাঁর প্রতিষ্ঠানকে ৩৭ কোটি টাকা দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

২০১৯ অন্ধ্রপ্রদেশের লোকসভার পাশাপাশি বিধানসভা নির্বাচনে ওয়াইএসআর কংগ্রেসের জন্য রাজনৈতিক মতাদর্শ হিসাবে হাজির হন প্রশান্ত কিশোর। প্রাথমিক ভাবে জগনমোহন রেড্ডি নিজে জানান কোনও পারিশ্রমিক নয় প্রশান্ত এসেছেন নিজের থেকেই তাঁর হয়ে রাজনৈতিক মতাদর্শের জন্য। তারপর বুকলেট কিংবা নানা প্রচারের মাধ্যমে অন্ধ্রপ্রদেশের ১৭৫ টি আসনের মধ্যে ১৫১ আসন ছিনিয়ে নেন জগন এর পাশাপাশি লোকসভাতে ২৫ টির মধ্যে ২২ টি আসন পায় জগনের দল। তাতে ধরাশায়ী হয় চন্দ্রবাবু নাইডু ও তাঁর দল। এখন রাজনৈতিক মহলের মনে একটাই প্রশ্ন তাহলে কী পশ্চিমবঙ্গেও তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে রাজনৈতিক মতাদর্শ দেওয়া প্রশান্ত কিশোর একই পরিমাণ পারিশ্রমিক নিচ্ছেন?

যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন প্রশান্ত নিজের ইচ্ছায় রাজনৈতিক মতাদর্শের জন্য এসেছেন দল থেকে ভাড়া করা হয়নি। তবে জগনের দেওয়া এই পারিশ্রমিক নিয়ে কিছুটা খটকা থেকেই যাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে। অন্ধ্রপ্রদেশের জগনের হয়ে প্রশান্তের মূল ওষুধ ছিল জনসংযোগ। তাঁর প্রমাণ ‘প্রজা সংকল্প যাত্রা’, দীর্ঘ ৩,৬৪৮ কিলোমিটার এই যাত্রার মাধ্যমে অন্ধ্রের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী জগন জনসংযোগ সারেন, আর সেই ভিডিও এখন ইউটিউব ভাইরাল। নির্বাচন কমিশনের কাছে দেওয়া রিপোর্টে জগনের দল জানিয়েছে, তাঁদের নির্বাচনের সময় ব্যাঙ্কের গচ্ছিত অর্থ ছিল, ৭৪ লক্ষ টাকা। নির্বাচনের সময় চাঁদা বাবদ মোট আয় হয়েছে ২২১ কোটি টাকা। নির্বাচনের সময় মোট খরচ হয়েছে ৮৫ কোটি টাকা, আলাদাভাবে বিজ্ঞাপনের জন্য খরচ হয়েছে ৩৬ কোটি টাকা।

এছাড়াও পোস্টার, ব্যানার, বুকলেট, লিফলেট, কাট আউট কিংবা ফ্লেস্কসের খরচায় নির্বাচন কমিশনের হাতে তুলে দিয়েছে জগনের দল। আপাতত তাঁদের দলের ব্যাঙ্ক ব্যালান্স রয়েছে ১৩৮ কোটি টাকা। তাঁর মধ্যেই প্রশান্ত কিশোর ও তাঁর প্রতিষ্ঠানকে এই অনুদান দিয়েছেন জগন সেটা জানিয়েছেন নিজেই। এখন রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, এর আগেও শোনা গিয়েছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করতে গিয়ে বিশাল অঙ্কের টাকা পারিশ্রমিক কিংবা অনুদান হিসাবে পেয়েছেন প্রশান্ত। কিন্তু পশ্চিমবাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে কী কিছুই পাচ্ছেন না প্রশান্ত? এই নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here