ডেস্ক: রমজান মাস উপলক্ষ্যে টানা প্রায় ১ মাস ধরে সংঘর্ষ বিরতি মেনে চলেছিল ভারতীয় সেনা। একইসঙ্গে সীমান্তে বন্ধ ছিল জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কোনও রকম সেনা অভিযানও। যার ভরপুর ফায়দা উঠিয়েছে পাক সেনা ও জঙ্গিরা। একের পর এক হামলায় সীমান্তে শহিদ হয়েছেন একাধিক ভারতীয় জওয়ান। শনিবার মধ্যরাত থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে সেই বিরতি তুলে নেওয়া হলেও। নতুন করে চিন্তা বাড়ছে ভারতীয় সেনার। সম্প্রতি জানা গিয়েছে, ভারতীয় সেনার বিরুদ্ধে হামলা চালাতে জঙ্গিদের হাতে এসেছে অত্যাধুনিক ইস্পাতের বুলেট যা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও বাঙ্কার ভেদ করতেও সক্ষম।

সেনার তরফে জানা গিয়েছে, এই অত্যাধুনিক বুলেটের বলি ইতিমধ্যেই হতে হয়েছে এক ভারতীয় জওয়ানকে। এমনিতে একে-সিরিজের রাইফেলের গুলি সাধারণত শীসার তৈরি হয়, কিন্তু জঙ্গিদের হাতে বিশেষ করে জইশ-ই-মহম্মদের হাতে আসা এই বুলেটের অন্তরভাগ সম্পূর্ণ ইস্পাতের তৈরি যা বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটতো বটেই বাঙ্কার ভেদ করতেও সক্ষম। সামরিক পরিভাষায় এই বুলেটকে বলে ‘আর্মার পিয়ার্সিং’ বা বর্ম-ভেদী। সাধারণত ইস্পাত বা টাংস্টেন কার্বাইড দিয়ে তৈরি করা হয় এই বুলেট। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রের খবর, চিনা প্রযুক্তির সহায়তায় চিন থেকে চোরা পথে পাকিস্তান হয়ে জঙ্গিদের হাতে ঢুকছে এই মারন বুলেট। আর তার জেরেই আতঙ্ক ছাইছে উপত্যকায়। বিষয়টি প্রকাস্যে আসার পরই নড়েচড়ে বেসেছে নিরাপত্তাবাহিনী।

উল্লেখ্য, উপত্যকায় এই ধরনের বুলেট প্রথমবার নজরে আসে ৩১ ডিসেম্বর এক সেনা জওয়ানের মৃত্যুর পর। ওইদিন দক্ষিণ কাশ্মীরের লেথপোরায় সিআরপিএফ শিবিরে আত্মঘাতী হামলা চালায় জয়েশ জঙ্গিরা। ঘটনার জেরে মৃত্যু হয় ৫ সেনার। বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে থাকা সত্ত্বেও জঙ্গিদের গুলিতে গুরুতর জখম হন এক জওয়ান। পরে মৃত্যু হয় তাঁর। ওই জওয়ানের শরীর থেকে পাওয়া বুলেট পরীক্ষা করে দেখা যায়, ওই গুলির অন্তরভাগ তৈরি হয়েছে সম্পূর্ণ ইস্পাত দিয়ে। এছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে জইশ জঙ্গিদের ডেরায় তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে এই ধরনের একাধিক গুলি। এই ঘটনার পরই ঘুম ছুটেছে নিরাপত্তাবাহিনীর। যদিও উপত্যকায় মোতায়েন সেনা জওয়ানদের নিরাপত্তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কেন্দ্র।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here