news bengali

মহানগর ওয়েবডেস্ক: পরিযায়ী শ্রমিকদের প্রতি উদাসীনতা প্রদর্শনের বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী এক দৃষ্টান্ত অনুসরণকারী সিদ্ধান্ত নিলেন। লে–তে আটকে থাকা ঝাড়খণ্ডের পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্য ফিরিয়ে আনতে রাজ্য সরকার ভাড়া করে নিল গোটা একটি বিমান। লকডাউন জারি হওয়ার পর থেকেই সারা দেশের পরিযায়ী শ্রমিকদের মতোই লে–তে বসবাসরত পরিযায়ী শ্রমিকরাও কর্মচ্যুত হয় এবং নিজেদের বাড়ি ফেরার জন্য কোনও পরিবহণ পাননি। মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন বিমান ভাড়া করে লে–তে আটকে থাকা ঝাড়খণ্ডের শ্রমিকদের বিমানে করে আজই রাচি ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন।

হেমন্ত সোরেনই প্রথম মুখ্যমন্ত্রী যিনি পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনতে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে বিমান ভাড়া করলেন। ঝাড়খণ্ডের ৬০ জন শ্রমিক লে’র বাতালিক থেকে রওয়ানা হয়ে আজই রাচি পৌঁছবেন বলে রাজ্য সরকার সূত্রে জানানো হয়েছে। ১০ মে টুইটারের মাধ্যমে লে’তে আটাকে থাকা ঝাড়খণ্ডের শ্রমিকরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন তাদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনার জন্য অনুরোধ করেন। তারা জানান, টিকে থাকার জন্য সমস্ত রসদই তাদের নিঃশেষিত। সঙ্গে সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগত ভাবে লাদাখ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে শ্রমিকদের ফিরিয়ে নিয়ে আসার জন্য সহায়তা চান।

বিমানের জন্য অনুমতি চেয়ে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে চিঠি পাঠানো হয় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। সে চিঠির কোনও জবাব না আসায় মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি পাঠিয়ে লে, আন্দামান এবং উত্তর–পূর্ব ভারতে আটকে পড়া ঝাড়খণ্ডের শ্রমিকদের বিমানে করে ফিরিয়ে নিয়ে আসার অনুমতি চান। সে চিঠিরও কোনও উত্তর আসেনি।

আন্তরাজ্য বিমান চলাচল চালু হওয়ায় রাজ্য সরকারের প্রশাসন আটকে থাকা শ্রমিকদের অবস্থান চিহ্নিত করে একটি বিমান ভাড়া করে দুমকা থেকে লে–তে কাজ করতে যাওয়া ৬০ জন শ্রমিককে রাজ্যে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে। এই শ্রমিকরা লে’র গরগোধ গ্রামে কর্মরত ছিলেন। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় সমস্ত শ্রমিকের থার্মাল স্ক্রিনিং হয়েছে বলে জানানো হয়েছে লে প্রশাসন সূত্রে। ঝাড়খণ্ড রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয় আট লক্ষ টাকা খরচ করে শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনার গোটা প্রক্রিয়াটি মুখ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগত ভাবে তদারক করছেন।

সূত্রের খবর, সোরেন সরকার আন্দামান–নিকোবরে আটকে পড়া ৩২০ জন শ্রমিককেও খুব দ্রুত বিমানে করে রাজ্যে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করছে। শ্রমিকদের রাজ্যে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার দাবিতে হেমন্ত সোরেন প্রথম থেকেই সরব ছিলেন। বিভিন্ন রাজ্যে আটকে থাকে ঝাড়খণ্ডের ৭.৫ লক্ষ শ্রমিকের মধ্যে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ভাবে ৪ লক্ষ শ্রমিককে রাজ্যে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত বৃহষ্পতিবারই সুপ্রিম কোর্ট সমস্ত রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয় পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থায় যাবতীয় সহায়তা করতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here