ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টের ‘কলেজিয়াম’ ঘিরে বিতর্ক। এতদিন পর্যন্ত কলেজিয়াম পদ্ধতিতেই বিচারপরিইদের পদোন্নতি এবং নিয়োগ পর্ব চালানো হত। কিন্তু এবার সেই ‘কলেজিয়াম’ পদ্ধতি নিয়েই বিচারপতিদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়ছে। আদালত সূত্রের খবর, রাজস্থান হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি প্রদীপ নন্দরাজ ও দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রাজেন্দ্র মেননের পদোন্নতি থমকে গিয়েছে এই কলেজিয়াম সিদ্ধান্তের জন্য। উল্লেখ্য, গত বছরের ডিসেম্বরেই ওই দুই বিচারপতির পদোন্নতির সুপারিশ করা হয়েছিল।

কলেজিয়ামের এহেন সিদ্ধান্তের জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের কাছে দরখাস্ত দিয়েছেন দিল্লি হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি কৈলাশ গম্ভীর। তিনি জানান, সঞ্জীব খান্নার পদোন্নতির আটকে যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত ‘অপমানজনক’। একই সঙ্গে তিনিই চিঠিতে লিখেছেন, ৩২ জন বিচারপতিকে যেভাবে সরানো হয়েছে, তা একরকমের ‘ধ্বংসাত্মক’ সিদ্ধান্ত। এমন সিদ্ধান্তে বিচারপতিদের যোগ্যতা, সততার সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করা হয়েছে। বিচারব্যবস্থায় স্বাধীনতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা অটুট রাখারও আর্জি রাষ্ট্রপতির কাছে করেছেন ওই অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি।

এই ‘কলেজিয়ামে’র ঘটনা প্রসঙ্গে প্রাক্তন বিচারপতি আর এম লোধা বলেছেন, কলেজিয়াম একটা প্রতিষ্ঠান। তাই এর উচিত নিজ সিদ্ধান্তেই কাজ করা। কোনও বিশেষ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে গেলে যুক্তি দিয়ে আলোচনা করা দরকার। শুধুমাত্র একজন বিচারপতি অবসর নিয়েছেন, যদি আলোচনার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হয়ে থাকে, তবে তা সম্পূর্ণ করা দরকার। অন্যদিকে মঙ্গলবার বিচারপতি চেলাশ্বরম সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ‘একারণেই ২০১৬ সালের কলেজিয়াম বৈঠকে যোগ দিতে রাজি ছিলাম না। সেসময় আমায় আইনজ্ঞরা বলেছিলেন যে, আমার ইস্তফা দেওয়া উচিত ও মুখ খোলা দরকার। এখন আমি অবসর গ্রহণ করেছি, এখন এই বিষয়ে আমার কথা বলার অধিকার আছে।’ এর পাশাপাশি, দিল্লি হাইকোর্টের প্রাক্তন বচারপতি এ পি শাহ বলেন, কলেজিয়াম যেভাবে কাজ করছে তাতে তিনিও যথেষ্ট অখুশী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here