নিজস্ব প্রতিনিধি, উত্তর ২৪ পরগনা: বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং তৃণমূল ত্যাগী মুকুল রায়ের জন্যই নাকি অশান্তি ছড়াচ্ছে রাজ্যজুড়ে। উত্তর ২৪ পরগণার শাসনে নিহত তৃণমূল নেতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে এমনই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করলেন জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।

দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে বৃহস্পতিবার শাসন গিয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। সেখানে গিয়ে তৃণমূল নেতা সাইফার রহমান ফলতির পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এরপর খুনের ঘটনার তীব্র নিন্দা করে শাসকদলের সভাপতি এই ঘটনার জন্য বিজেপির দুই নেতা দিলীপ ঘোষ ও মুকুল রায়কে নিশানায় নেন। জ্যোতিপ্রিয়র দাবি, বিজেপি নেতাদের প্ররোচনামূলক বক্তব্যের জেরে এই রাজ্য জুড়ে বিশৃংখলা ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, সাইফার রহমান বেলিয়াঘাটা অঞ্চলের নেতা ছিলেন। ও আগামী দিনে এই জেলার নেতা হত। ওর মধ্যে নেতা হওয়ার দক্ষতা ছিল। ওকে বিজয় মিছিলের মধ্যে ঢুকে খুন করা হল। আমার ৪০ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এই প্রথম এই ঘটনা দেখলাম। ও বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় জিতেছিল। বিজেপি নেতাদের প্ররোচনামূলক বক্তব্যের জেরে রাজ্যে অশান্তি ছড়াচ্ছে। স্বরূপ নগরের এক দলীয় নেতাকে পঞ্চায়েত নির্বাচনের পর দেখে নেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ইতিমধ্যেই মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। খুব শীঘ্রই দিলীপ ঘোষের বিরুদ্ধেও আমরা এফআইআর করছি। এই দুই নেতাকে বাইরে রাখা যাবে না। এরা গণতন্ত্রের পক্ষে বিপজ্জনক।’

উল্লেখ্য, বুধবার বিকেলে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয় এক তৃনমুল নেতাকে। ঘটনাস্থল উত্তর ২৪ পরগনা জেলার সদর মহকুমার বারাসত-২ ব্লকের শাসন গ্রাম পঞ্চায়েত সংলগ্ন বেলিয়াঘাটা ব্রিজ এলাকা। প্রাথমিক ভাবে জানা যায়, পঞ্চায়েতে বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় জয়ী হয়ে এদিন মিছিল করছিলেন বেলিয়াঘাটার অঞ্চল সভাপতি তথা তৃণমূল নেতা সাইফার রহমান ফলতি। সেই সময় তার বিরুদ্ধ গোষ্ঠীর জনৈক রজব আলি, বেলিয়াঘাটা ব্রিজ পার হতেই তার ওপরে চড়াও হয়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে। ঘটনা স্থলে লুটিয়ে পড়েন সাইফার। বারাসাত হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত বলে ঘোষনা করা হয়।

ঘটনার পর বিরোধী গোষ্ঠীর স্থানীয় বাসিন্দারা রজবকে ধরে গনধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। সূত্রের খবর, খুনের পর সেখানেই জনতা ধরে ফেলে ঘাতক রজব আলীকে। গনধোলাই দেওয়া হয় তাঁকে। রজবের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক হলে বারাসাত হাসপাতালে তাকে আনা হয়। এরপর সন্ধ্যে নাগাদ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয় এবং ডাক্তাররা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here