মহানগর ওয়েবডেস্ক: রাজস্থানে সরকার পতনের খেলায় ময়দানে এবার জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। না, তিনি সক্রিয়ভাবে খেলায় অংশ নেননি। তবে একটি টুইট করেই যা বোঝানোর বুঝিয়ে দিয়েছেন। একদা দলেরই সহকর্মী শচীন পাইলটের পাশে দাঁড়িয়েছেন, এবং কংগ্রেসে যে তরুণ তুর্কিদের কোণঠাসা করার রেওয়াজ রয়েছে সেই ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

চলতি বছরে মার্চ মাসে ঠিক একই ভাবে নিজের অনুগামী বিধায়কদের ‘রিসর্টে’ রেখে কাউকে কিছু না জানিয়ে দিল্লি পাড়ি দিয়েছিলেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। তখনও কেউ ভাবেনি কংগ্রেসি ঘরানার এই রাজপুত্র বিজেপিতে যোগ দেবেন। তিনি তো যোগ দিলেনই, সঙ্গে মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেস তথা কমলনাথ সরকারেরও পতন ঘটালেন। হুবহু একই পদাঙ্ক অনুসরণ করে একই কাজ করেছেন শচীন পাইলটও। ফলে তিনিও সিন্ধিয়ার পথ ধরবেন কিনা সেটা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে শচীন ও সিন্ধিয়ার বন্ধুত্ব যে অটুট সেই প্রমাণ এদিন টুইটে দিয়েছেন সিন্ধিয়া। তিনি লিখেছেন, ‘খারাপ লাগছে আমার পূর্ব সহকর্মী শচীন পাইলটকেও কীভাবে সাইডলাইনে ঠেলে কষ্ট দিয়েছে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট। বোঝাই যাচ্ছে প্রতিভা এবং দক্ষতা কংগ্রেসে কত কম জায়গা পায়।’

বস্তুত এই টুইটের মাধ্যমে এক ঢিলে অনেকগুলি পাখি মেরেছেন সিন্ধিয়া। প্রথমত, তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন কংগ্রেসে থাকার সময় তাঁকেও একই ভাবে সাইডলাইনে ঠেলে দিয়েছিল তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথের শিবির। একই সঙ্গে তাঁর প্রতিভা বা দক্ষতা, কোনওটাই যে কংগ্রেস কাজে লাগাতে পারেনি সেটাও কার্যত তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন। আরও একটা বিষয়ে কিছু না বলেও অনেক কিছু বলে দিয়েছেন সিন্ধিয়া। তা হল- কংগ্রেস এখনও গান্ধী পরিবারের বৃত্তের বাইরে বেরোতে পারেনি। কেননা তারা প্রতিভা বা দক্ষতার সম্মান করতে পারে না। তারা ওই গান্ধী নামক বৃত্তেই থাকতে জানে।

শচীন পাইলট বিজেপিতে আদৌ দেবেন কিনা, রাজস্থানে সরকার পড়বে কিনা তা সময় বলবে। কিন্তু, সিন্ধিয়ার এদিনের টুইট ফের একবার কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে বহু প্রশ্ন তুলবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here