bengali news bjp

মহানগর ওয়েবডেস্ক: একটা সময় ছিল যখন ৬ মরলীধর সেন লেনে রীতিমতো আনাগোনা ছিল কেন্দ্রের হেভিওয়েট গেরুয়া মাথাদের। তবে করোনাকালে কলকাতায় আর দেখা পাওয়া যায় না তাদের। অদ্ভুতভাবে এই সময়টুকুর মধ্যে বঙ্গ বিজেপিতে ব্যাপকভাবে বেড়েছে গোষ্ঠী কোন্দল। সম্প্রতি দিলীপ ঘোষের ‘পরোয়া করি না’ ধরনের মন্তব্য সেই কোন্দলকে স্বীকৃতিও দিয়েছে। দিন দিন খারাপ থেকে খারাপতর হচ্ছে পরিস্থিতি। একুশের নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতিতে ভালো নয় তা বেশ বুঝতে পারছে দিল্লি। ফল স্বরূপ বঙ্গ বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষকে তলব করা হয়েছে দিল্লিতে। পাশাপাশি সূত্রের খবর দলীয় কোন্দল সামাল দিতে আগামী সপ্তাহেই কলকাতায় আসছেন বঙ্গ বিজেপি পর্যবেক্ষক কৈলাস বিজয়বর্গীয়।

বলার অপেক্ষা রাখে না বন্ধ বিজেপির অন্দরের ইতিমধ্যেই প্রকট হয়ে উঠেছে দুটি শিবির। একদিকে দিলীপ অন্যদিকে মুকুল। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি যে মোটেও ভালো লক্ষণ নয় তা বেশ বুঝতে পারছে নেতা থেকে কর্মী প্রত্যেকেই। ফলস্বরূপ ৬ মুরলীধর সেন লেন সামাল দিতে তড়িঘড়ি কলকাতা আসার সিদ্ধান্ত নিলেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়। এ প্রসঙ্গে বিজেপি সূত্রে জানা যাচ্ছে, দলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব এভাবে চরমে না উঠলে কলকাতায় আসতেন না কৈলাস বিজয়বর্গীয়। কিন্তু পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে করোনার ঝুঁকি নিয়েই রাজ্যে আসছেন তিনি। পাশাপাশি দলীয় এক নেতার দাবি, এই সময়ে আমাদের উচিত একত্রিত হয়ে বিধানসভা লড়াইকে নজর রেখে মাঠে নামা। তার পরিবর্তে দলের অন্দরেই বিবাদে জড়িয়ে পড়েছি আমরা। যার ফলেই কৈলাসজির আগমন। জানা যাচ্ছে কলকাতায় এসে দিলীপ-মুকুলদের নিয়ে বৈঠকে বসবেন বিজয়বর্গীয়। প্রত্যেকের বক্তব্য শোনার পর গোটা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করবেন তিনি। ওদিকে আবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে একান্তে দেখা করতে চেয়ে ছিলেন মুকুল রায়। তবে তিনি করোনা আক্রান্ত হওয়ায় সেটা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। এই পরিস্থিতিতে কৈলাস বিজয়বর্গীয় মাঠে নেমে কতটা কি সামাল দিতে পারে সেটাই দেখার।

প্রসঙ্গত, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে দিলীপ ঘোষ সভাপতি পদ ছাড়তে চান বলে গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল বিজেপির অন্দরে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই প্রশ্নের উত্তরে রুদ্র মূর্তি ধারণ করতে দেখা যায় দিলীপকে। রীতিমতো শাসানির সুরে দিলীপ বলেন, ‘দিলীপ ঘোষ যদি পদত্যাগ করতে চাইত, তা হলে এত দিন পদে থাকত না‌। আমি বুকে পা দিয়ে রাজনীতি করতে এসেছি। যে সামনে আসবে, তার বুকে পা দিয়ে রাজনীতি করব। বাংলার পরিবর্তন দিলীপ ঘোষ একা করতে পারবে। কারও যদি আত্মবিশ্বাস, বিশ্বাস না থাকে, বাড়িতে বসে থাকুক। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী হলে ওরা যেন মিষ্টি খেতে আসে।’ দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য রীতিমতো বিতর্ক তৈরি করে। পাশাপাশি স্পষ্ট হয়ে যায় দলের অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। সেই ঘটনার জেরে এদিন দিল্লিতে দিলীপ ঘোষকে ডাক পাঠিয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here