kolkata bengali news

বিশেষ প্রতিবেদক, কৃষ্ণনগর: লোকসভার ভোট ঘোষণার পর থেকেই নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রের বিজেপি নেতাকর্মীরা জুলুবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে দিয়েছিলেন। কেননা তারা জানতেন এই কেন্দ্রে গত দুই দশকের চিরাচরিত প্রার্থী জুলুবাবু ওরফে সত্যব্রত মুখার্জী। কিন্তু এই কেন্দ্রের প্রার্থী হিসাবে কল্যাণ চৌবের নাম ঘোষণার পরই দলের নিচুতলার কর্মীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। প্রথমদিন কল্যাণবাবু প্রচারের নেমে রীতিমত অস্বস্তি পড়েও যান সেই কারনে। তার সঙ্গে কৃষ্ণনগর শহরের যত সংখ্যক দলীয় কর্মীরা প্রচারে বার হওয়ার কথা ছিল সেই পরিমাণ কর্মীদের সিকিভাগেরও দেখা যায়নি এদিন। পাশাপাশি প্রচারে বেড়িয়ে শহরের লোকেদের কাছ থেকে তাকে শুনতে হয়েছে এই কেন্দ্রে জুলুবাবু নেই, তাই ভোটও নেই। আসলে ১৯৯৮ সাল থেকে কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রে পদ্মফুলের পাশে জুলুবাবুর নামটাই দেখতে অভ্যস্ত সকলে। এই বার তার জায়গায় বহিরাগত কল্যান চৌবের নাম উঠে এসেছে মোদী-অমিতের নীতির জেরে। কারণ দুইজনই এবারে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ৭৫’র উর্দ্ধে কাউকে ভোটের টিকিট দেওয়া হবে না। তাই এবারে টিকিট জোটেনি লালকৃষ্ণ আদবাণী থেকে মুরলি মনোহর যোশী। সেই নীতির জেরেই নাম পড়েছে জুলুবাবুরও।

রবিবার নিজের প্রথম প্রচারে বেড়িয়ে জুলুবাবুর অনুপস্থিতি বেশ স্পষ্ট টের পান কল্যাণ চৌবে। কার্যত তার সামনেই দলের নেতাকর্মীদের ক্ষোভ ফুটে ওঠে। ওইদিন প্রচারে দেখা যায়নি জুলুবাবুর কোন অনুগামীকে। কল্যাণবাবু এই পরিস্থিতি আঁচ আগে থেকে পেয়েছিলেন বলেই নাম ঘোষণার পরই ছুটে গিয়েছিলেন জুলুবাবুর কাছে। কিন্তু তবুও কর্মীদের ক্ষোভে মলম দিতে পারেননি কল্যাণবাবু। জুলুবাবুর অনুগামীরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন জুলুবাবু প্রচারে নামলে তবেই তারা প্রচারে পা মেলাবেন, নচেৎ নয়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে কল্যানবাবু বুধবার জুলুবাবুকে সঙ্গে নিয়ে কৃষ্ণনগর শহরে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে যান। সেখানে দুজনেই সাংবাদিক সম্মেলন করেন ও একই সঙ্গে শহরের রাস্তায় প্রচারে নামেন। কিন্তু জুলুবাবুর শরীরের যা অবস্থা তাতে তিনি কতটা রোদ জলে পুড়ে প্রার্থীর সঙ্গে প্রচারে নামতে পারবেন তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

 

বুধবার কৃষ্ণনগরে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে জুলুবাবু বলেন, ‘আমার মনে কোন ক্ষোভ নেই। আমি প্রার্থী না হওয়াতে যাদের ক্ষোভ ছিল তাদেরও কোন ক্ষোভ নেই, তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তারা সকলেই আমাদের দলের প্রার্থীর সঙ্গে প্রচারে বার হবেন। আমিও প্রচারে বেরবো। কল্যাণবাবু প্রার্থী হিসাবে খবই ভালো মানুষ। তার কথাবার্তা ও ব্যবহার খুবই ভাল। আমি আশাবাদী এই কেন্দ্রের মানুষ তাকে মেনে নেবেন ও জয়ী করবেন ভোট দিয়ে।’ তবে বিজেপির নেতা কর্মীদের একাংশ প্রশ্ন তুলছেন, জুলুবাবুকে দিয়ে সভা ও প্রচার করলেই কী জয়ের আশা বাড়বে? কারণ তিনি টানা পাঁচ বার এই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হয়ে ১৯৯৯সালে জিতেছেন মাত্র একবার। সেইবার তৃণমূলের সঙ্গে জোট হয়েছিল বিজেপির। বাকি চারবার বিজেপির টিকিটে লড়াই করে তিনি হেরেছেন। গতবার তিনি তৃতীয় স্থানে ছিলেন। প্রার্থী কল্যাণ চৌবে অবশ্য তাকিয়ে জুলুবাবুর দিকে। তিনি বলেন, ‘আমি শুধুমাত্র বিজেপি দলের প্রার্থী হিসাবে ভোটে লড়ছি। ব্যক্তি হিসাবে নয়। এই ভোটের যাবতীয় পরিকল্পনা আপনাদের জুলুবাবুই করবেন। ওনার নেতৃত্বে মেনেই চলতে চাইছি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here