kolkata bengali news

মহানগর ওয়েবডেস্ক: সময় বদলাচ্ছে, বদলাচ্ছে চিন্তাধারাও। বনেদি বাড়ির সাবেকি পুজোকে টেক্কা দিয়ে বাজার মাতাচ্ছে থিম। ফল যা হওয়ার তাই, জৌলুস কমে গিয়েছে সাবেকিয়ানায়। ৩০০ বছরের পুরানো ঠিক তেমনই এক পুজো কল্যাণীর রথতলার বনেদি বাড়ির। সময়ের তালে তালে এখানে হারিয়ে গিয়েছে কড়া নিয়মনিষ্ঠা ও সংস্কার। শুধুমাত্র পুজোর চারদিন আনন্দ করার উদ্দেশ্য নিয়েই পুজো হয় এই বাড়িতে। আর তাতেই মাতেন বাড়ির সদস্য থেকে গ্রামবাসীরা।

ঘটনাস্থল নদীয়ার কল্যাণীর রথতলার ২০ নম্বর ওয়ার্ড। যেখানে একমাত্র বনেদি পুজো মুখার্জীর বাড়ির পুজো। অতি প্রাচীন প্রায় ৩০০ বছরের এই পুজো আজ কিছুটা মিইয়ে গেলেও, আজ লোকমুখে বহুল প্রচলিত তার ঐতিহ্যের গরিমায়। মুখার্জী বাড়ির বংশধর জগন্নাথ মুখার্জী এক প্রকার আক্ষেপের সুরে জানান, ‘তিন শতাব্দী পুরানো এই পুজোয় সেই আদি কালে রাজা কৃষ্ণচন্দ্র যে প্রতিমা তৈরি করতেন আজও সেভাবেই গঠন করা হয় প্রতিমা। এখানে দুর্গার দুটি হাত বড় আর বাকি আটটি হাত ছোট হয়। পুজো হয় পুরোপুরি বৈষ্ণব ধর্মমতে।’ তাঁর কথায়, মুধুসূধন মুখার্জীর তিন ছেলে নরেন্দ্র, বীরেন্দ্র ও জিতেন্দ্র এই তিন পরিবার মিলে পুজোটি করে থাকেন। তবে এখন আর সেই নিয়মনিষ্ঠা মেনে পুজো হয় না। সেই সহযোগিতা এখন আর কেউ করেনও না। সময়ের হাত ধরে পুরানো সেই সংস্কারও কোথাও হারিয়ে গিয়েছে। এখন পুজো শুধু পারিবারিক আনন্দের জন্য।

মুখার্জী পরিবারের প্রতিমা প্রায় ৫০ বছর ধরে তৈরী করে আসছেন কানাই পাল নামের এক মৃৎ শিল্পী। তিনি জানান, প্রতিবছর রথের দিন কাঠামো পুজো হয় এই বাড়িতে। কিন্তু এবার জন্মাষ্টমীর দিন কাঠামো পুজো হয়েছে। দীর্ঘ দিন ধরে এই প্রতিমা তৈরীর ভার আমার উপরেই। তাঁরও দাবি, যত দিন যাচ্ছে বনেদি পুজোর জৌলুস হারাচ্ছে। আর হয়ত এখান থেকেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি এখন শুধু আনন্দ দানের পুজো হয়েই থাকবে বনেদি পুজোগুলো, নাকি আগের মতো ফের জৌলুস ফিরে পাবে সাবেকিয়ানা?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here