kolkata bengali news

ডেস্ক: বিজেপির সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে চ্যালেঞ্জ জানালেন জেএনইউ ছাত্র সংসদের প্রাক্তন সভাপতি কানাইহা কুমার। বেগুসরাই কেন্দ্রে সিপিআইয়ের প্রার্থী হয়ে চিন্তায় ফেললেন গৈরিক শিবিরকে। সূত্রের খবর, এই কেন্দ্রে তাঁকে প্রার্থী করায় খুশি নন বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা গিরিরাজ সিংও।

উল্লেখ্য, কানাইহা কুমার সারা দেশেই এক প্রতিবাদী মুখ। নিজের এলাকাতেও তিনি জনপ্রিয় নেতা। দিল্লির জওহরলাল ইউনিভারসিটিতে তাঁর বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ এনেছিল বিজেপির ছাত্র সংগঠন এবিভিপি। এই অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতারও করে পুলিশ। কিন্তু চার্জসিট দিতে পারেনি। বিজেপি সরকারের আমলে দেশ জুড়ে একের পর এক মুক্তচিন্তার মানুষের উপর আক্রমণের প্রতিবাদে সোচ্চা্র কানাইহা একসময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও খোলা বিতর্কে আহ্বান জানান। ফলে তাঁকে প্রার্থী করে বিজেপিকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে সিপিআই। রবিবার দলের পক্ষ থেকে বিহারের বেগুসরাই লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী হিসাবে তাঁর নাম ঘোষণার পর কানাইহা কুমার সাফ জানান, তাঁর লড়াই বিজেপি প্রার্থী গিরিরাজ সিংয়ের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে। আরজেডি প্রার্থী তানভীর হাসানের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই নয়। প্রসঙ্গত, মহাজোটে সিপিআইকে নেয়নি আরজেডি। এনিয়ে কুমার বলেন, এই সিদ্ধান্ত আরজেডির রাজনৈতিক অঙ্ক। কিন্তু যেসব কেন্দ্রে সিপিআই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে না, সেখানে দলীয় কর্মীরা মহাজোটের প্রার্থীদের ভোট দেবেন।

সিপিআইয়ের শক্ত ঘাঁটি বেগুসরাইয়ে গত প্রায় একবছর ধরে দলের প্রচার করছেন কানাইহা কুমার। এই কেন্দ্রে তিনি পরিচিত মুখ। ভূমিপুত্র। প্রাক্তন ছাত্রনেতা, যুবসমাজের আইডল কানাইহা বলেন, যখন বিজেপি প্রার্থী গিরিরাজ সিং নিয়ে কথা ওঠে, তখন আমি একটাই কথা বলি যে, বেগুসরাইয়ে কোনও ধর্মীয় উন্মাদনা নেই। তাঁর প্রশ্ন, এখানকার মানুষ কেন গিরিরাজকে মেনে নেবেন? তিনি এখান থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, কিন্তু এখানে আসবেন না। তিনি আরও বলেন, আমার লড়াই গিরিরাজ সিংয়ের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে। তাঁর কটাক্ষ, গিরিরাজকে দেখে মনে হয় তিনি ভারতীয় মন্ত্রী। কিন্তু পাকিস্তানের ভিসামন্ত্রীর মতো তিনি বিভিন্ন সময়ে ভারতীয়দের পাকিস্তানে পাঠান। অন্যদিকে, আরজেডি প্রার্থী তানভীর হাসান সম্পর্কে কানাইহা বলেন, হাসান আমার প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। এটা আমার মতাদর্শ নিয়ে কথা বলার সময়। আমি জাতপাতের রাজনীতিতে বিশ্বাসী নই। দেশদ্রোহিতার অভিযোগের পরও বেগুসরাইয়ের মানুষ আমায় সমর্থন করেছে। এটাই আমার প্রেরণা। এছাড়াও কানাইহা বলেন, মহাজোট এবং বামেরা উভয় শিবিরই বিজেপিকে পরাস্ত করতে চায়। ফলে আমাদের লক্ষ্য এক। যদিও বেগুসরাইতে আমাদের জোট হয়নি। কিন্তু এমন এক সময়ে নির্বাচন হচ্ছে, যখন দেশ দুভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে। এক পক্ষ সংবিধানের স্বপক্ষে এবং অন্য পক্ষ বাণিজ্যক সংস্থার স্বপক্ষে রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here